বৃহস্পতিবার , ২১ মে ২০২৬
হোমস্বাস্থ্যস্ত্রীর চিকিৎসায় একদিনেই লাগছে নাসিরের এক মাসের বেতন

স্ত্রীর চিকিৎসায় একদিনেই লাগছে নাসিরের এক মাসের বেতন

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:-
স্ত্রীর চিকিৎসায় একদিনেই লাগছে নাসিরের এক মাসের বেতন

স্ত্রীর চিকিৎসায় একদিনেই লাগছে নাসিরের এক মাসের বেতন

নাসির উদ্দিন পুকুর পাহারাদারের কাজ করেন। মাসে বেতন ৭ হাজার টাকা। তার স্ত্রী রাজেনা খাতুন গুরুতর অসুস্থ। ভর্তি আছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। এর মধ্যে প্রায় এক মাস ধরেই রোগী আছেন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। সেখানে প্রতিদিন যে খরচ হচ্ছে তা নাসির উদ্দিনের এক মাসের বেতনের সমান টাকা।

রাজেনার জীবন বাঁচাতে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালক পিকেএম মাসুদ উল ইসলাম, আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ অন্যান্য চিকিৎসক এবং নার্সরাও সহযোগিতা করেছেন। ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল সমাজসেবা অফিস থেকেও কিছু ওষুধ কেনার টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এখন আর কোনো উপায় পাওয়া যাচ্ছে না। তাই চোখে অন্ধকার দেখছেন নাসির উদ্দিন।

রোগী রাজেনার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে। সন্তান প্রসবের জন্য গত ১৫ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নরমাল ডেলিভারিতে সেদিন একটি মৃতসন্তান প্রসব করেন রাজেনা। তখন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। এতে তার কিডনির কার্যক্ষমতা একেবারেই কমে যায়। তাকে কিডনি ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে ডায়ালাইসিস করানো হয়।

কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই থাকে। তখন তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেও কিডনির ডায়ালাইসিস করানো হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন, একটি জীবাণুর আক্রমণে রাজেনার এ অবস্থা। তখন ওষুধ প্রয়োগ শুরু হয়। ধীরে ধীরে কিডনি কার্যক্ষমতা ফিরে পায়।

আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, রাজেনার চিকিৎসায় নতুন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তারা। তার শরীর এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে। কোনো এন্টিবায়োটিকই কাজ করছে না। একের পর এক এন্টিবায়োটিক পরিবর্তনের পর তারা একটিমাত্র ইনজেকশন পেয়েছেন; যা রাজেনার শরীরে কাজ করছে। এই ইনজেকশনটির একটির দাম ১ হাজার ৫৫০ টাকা। প্রতিদিন দুটি করে ইনজেকশন দিতে হচ্ছে।

রাজেনার স্বামী নাসির উদ্দিন জানান, স্ত্রীকে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। তখন খিঁচুনি ছিল। তাই দ্রুত রাজশাহী পাঠানো হয়। এখানে ভর্তির ১০ মিনিটের মধ্যে রাজেনা মৃত সন্তান প্রসব করেন। এরপর একমাসের বেশি সময় ধরে তার স্ত্রী আইসিইউতেই আছেন।

নাসির জানান, প্রথমে ১৪ দিন রাজেনার কোনো জ্ঞান ছিল না। তিনি এখন কথা বলতে পারেন না, খেতেও পারেন না। হাত-পা নড়াচড়া করেন না। নাসির আর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পারছেন না।


নাসির বলেন, আমি একাই কর্ম করি। পুকুর পাহারা দিয়ে মাসে ৭ হাজার টাকা পাই। এখন হাসপাতালেই আমার কোনদিন ৭ হাজার, কোনো দিন ৫ হাজার বা কোনো দিন ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ডাক্তার, নার্স, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবরা এতদিন ধরে সাহায্য করে আসছেন। মানুষের কাছে চেয়েচিন্তে চালানোর চেষ্টা করেছি।


তিনি বলেন, এখন আর পারছি না। টাকার অভাবে মনে হচ্ছে স্ত্রীকে আর বাঁচাতে পারব না। আমাকে কেউ যদি সহযোগিতা করেন, তাহলে খুব ভালো হয়। স্ত্রীর জীবনটা বাঁচাতে পারি।

ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, রাজেনার চিকিৎসায় যে খরচ হচ্ছে তা স্বামীর সামর্থ্যরে বাইরে। আমরাও সহযোগিতা করেছি, সিস্টাররা সহযোগিতা করেছেন। সমাজসেবা থেকে কিছু টাকার ব্যবস্থা করেছি। এখন আর উপায় পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই তো উপযুক্ত মানুষকে সাহায্য করতে চান। এ রকম অসহায়দের সহযোগিতা করা দরকার।

স্ত্রীর চিকিৎসায় একদিনেই লাগছে নাসিরের এক মাসের বেতন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২০ মে ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ২১ মে ২০২৬
হোমস্বাস্থ্যস্ত্রীর চিকিৎসায় একদিনেই লাগছে নাসিরের এক মাসের বেতন

স্ত্রীর চিকিৎসায় একদিনেই লাগছে নাসিরের এক মাসের বেতন

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:-
স্ত্রীর চিকিৎসায় একদিনেই লাগছে নাসিরের এক মাসের বেতন

স্ত্রীর চিকিৎসায় একদিনেই লাগছে নাসিরের এক মাসের বেতন

নাসির উদ্দিন পুকুর পাহারাদারের কাজ করেন। মাসে বেতন ৭ হাজার টাকা। তার স্ত্রী রাজেনা খাতুন গুরুতর অসুস্থ। ভর্তি আছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। এর মধ্যে প্রায় এক মাস ধরেই রোগী আছেন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। সেখানে প্রতিদিন যে খরচ হচ্ছে তা নাসির উদ্দিনের এক মাসের বেতনের সমান টাকা।

রাজেনার জীবন বাঁচাতে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালক পিকেএম মাসুদ উল ইসলাম, আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ অন্যান্য চিকিৎসক এবং নার্সরাও সহযোগিতা করেছেন। ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল সমাজসেবা অফিস থেকেও কিছু ওষুধ কেনার টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এখন আর কোনো উপায় পাওয়া যাচ্ছে না। তাই চোখে অন্ধকার দেখছেন নাসির উদ্দিন।

রোগী রাজেনার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে। সন্তান প্রসবের জন্য গত ১৫ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নরমাল ডেলিভারিতে সেদিন একটি মৃতসন্তান প্রসব করেন রাজেনা। তখন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। এতে তার কিডনির কার্যক্ষমতা একেবারেই কমে যায়। তাকে কিডনি ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে ডায়ালাইসিস করানো হয়।

কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই থাকে। তখন তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেও কিডনির ডায়ালাইসিস করানো হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন, একটি জীবাণুর আক্রমণে রাজেনার এ অবস্থা। তখন ওষুধ প্রয়োগ শুরু হয়। ধীরে ধীরে কিডনি কার্যক্ষমতা ফিরে পায়।

আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, রাজেনার চিকিৎসায় নতুন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তারা। তার শরীর এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে। কোনো এন্টিবায়োটিকই কাজ করছে না। একের পর এক এন্টিবায়োটিক পরিবর্তনের পর তারা একটিমাত্র ইনজেকশন পেয়েছেন; যা রাজেনার শরীরে কাজ করছে। এই ইনজেকশনটির একটির দাম ১ হাজার ৫৫০ টাকা। প্রতিদিন দুটি করে ইনজেকশন দিতে হচ্ছে।

রাজেনার স্বামী নাসির উদ্দিন জানান, স্ত্রীকে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। তখন খিঁচুনি ছিল। তাই দ্রুত রাজশাহী পাঠানো হয়। এখানে ভর্তির ১০ মিনিটের মধ্যে রাজেনা মৃত সন্তান প্রসব করেন। এরপর একমাসের বেশি সময় ধরে তার স্ত্রী আইসিইউতেই আছেন।

নাসির জানান, প্রথমে ১৪ দিন রাজেনার কোনো জ্ঞান ছিল না। তিনি এখন কথা বলতে পারেন না, খেতেও পারেন না। হাত-পা নড়াচড়া করেন না। নাসির আর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পারছেন না।


নাসির বলেন, আমি একাই কর্ম করি। পুকুর পাহারা দিয়ে মাসে ৭ হাজার টাকা পাই। এখন হাসপাতালেই আমার কোনদিন ৭ হাজার, কোনো দিন ৫ হাজার বা কোনো দিন ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ডাক্তার, নার্স, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবরা এতদিন ধরে সাহায্য করে আসছেন। মানুষের কাছে চেয়েচিন্তে চালানোর চেষ্টা করেছি।


তিনি বলেন, এখন আর পারছি না। টাকার অভাবে মনে হচ্ছে স্ত্রীকে আর বাঁচাতে পারব না। আমাকে কেউ যদি সহযোগিতা করেন, তাহলে খুব ভালো হয়। স্ত্রীর জীবনটা বাঁচাতে পারি।

ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, রাজেনার চিকিৎসায় যে খরচ হচ্ছে তা স্বামীর সামর্থ্যরে বাইরে। আমরাও সহযোগিতা করেছি, সিস্টাররা সহযোগিতা করেছেন। সমাজসেবা থেকে কিছু টাকার ব্যবস্থা করেছি। এখন আর উপায় পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই তো উপযুক্ত মানুষকে সাহায্য করতে চান। এ রকম অসহায়দের সহযোগিতা করা দরকার।

স্ত্রীর চিকিৎসায় একদিনেই লাগছে নাসিরের এক মাসের বেতন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২০ মে ২০২৬