গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও নরমাল প্রসব নিশ্চিতের বার্তা
একটি সুস্থ ও সাকল্য শিশু পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় একজন মায়ের গর্ভকালীন সময় কাটে নানা শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। এই সংবেদনশীল সময়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চায়নের পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশে সন্তান প্রসব করা অত্যন্ত জরুরি। গর্ভবতী মায়েদের মাঝে এসব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক নরমাল ডেলিভারিতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে রাজশাহীতে এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও সংবর্ধনা আয়োজিত হয়েছে।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর সিটি চার্চ হলরুমে ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদ প্রসব সচেতনতা ও সম্মাননা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এডিপি)। আয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিক নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করা সংবর্ধিত ১২০ জন মা সরাসরি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বকীয় অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে রাজশাহী নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড়বনগ্রাম এলাকার প্রসূতি মা সুমাইয়া আক্তার মিম জানান, গত ১৬ মে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদে ও স্বস্তির সাথে তাঁর সুস্থ সন্তান জন্মলাভ করে। গর্ভাবস্থায় সঠিক নিয়মে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিয়মিত তদারকি তাঁর নরমাল প্রসবকে সহজ করেছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ.এম.এম. আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, গর্ভধারণের পর প্রতিটি মায়ের অন্তত চারবার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা আবশ্যক। মা ও গর্ভস্থ শিশুর সঠিক বেড়ে ওঠা ও পুষ্টি নিশ্চিতে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের মতো প্রাণীজ আমিষের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত মৌসুমী শাকসবজি রাখা প্রয়োজন। যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন জোর দিয়ে বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেবল প্রসূতির একার নয়, বরং পরিবারের সকল সদস্যের সমন্বিত সচেতনতা এখানে প্রধান ভূমিকা রাখে। নরমাল ডেলিভারি নিয়ে অহেতুক ভীতি দূর করে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে গর্ভবতী মায়েদের মানসিকভাবে আশ্বস্ত ও উৎসাহিত করার দায়িত্ব পরিবারকেই নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিষাদ ও সচেতনতামূলক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহীর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নিলু বেগম। তিনি উল্লেখ করেন, শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সার্বিক সুরক্ষা ও পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডেই গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সুরক্ষায় বিশেষ টিটিসি (Timed & Targeted Counseling) মডেল প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রসূতিদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রমুখী করতেই সাফল্য অর্জনকারী ১২০ জন মাকে প্রমোট ও সম্মানিত করা হয়েছে।
একই আয়োজনে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার ফিলিপ আরিন্দা তাঁদের বৈশ্বিক 'ফাইভ জিরো প্লাস' ক্যাম্পেইনের মূল প্রতিপাদ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধ, ঝরে পড়া রোধ এবং কোনো শিশু যেন অপুষ্টি বা ক্ষুধার শিকার না হয়—সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জনের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। পুরো অনুষ্ঠানটির দক্ষ পরিচালনায় ছিলেন সংস্থাটির রাজশাহী শহর এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদার। এতে জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার অর্জুন রায়সহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।