শুক্রবার , ০৬ মার্চ ২০২৬
হোমরাজশাহীরামেবিতে ১ হাজার কোটি টাকার চার দরপত্রে মূল্যায়ন কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ

রামেবিতে ১ হাজার কোটি টাকার চার দরপত্রে মূল্যায়ন কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রামেবিতে ১ হাজার কোটি টাকার চার দরপত্রে মূল্যায়ন কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) স্থাপন প্রকল্পের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের চারটি দরপত্রে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টেক) গঠনে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দরপত্রসমূহ বাতিল এবং কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

সংক্ষুব্ধ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাবাস্সুম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হান্নান বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার এবং দুর্নীতি দমন কমিশন-এর রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালকের কাছেও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি ইজিপি পদ্ধতিতে চারটি দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার নম্বর ১১৬৫৩৭৪, ১১৬৫৪৮৫, ১২১২২৬০ ও ১২০৮৪৪৩। এসব কাজ মূল্যায়নের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টেক) গঠন করা হয়। কিন্তু ওই কমিটিতে একই প্রকল্পের ক্রয় পরামর্শক রেজাত হোসেন রিটুকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পিপিআর-২০২৫ এর ১১(৫) বিধির পরিপন্থি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিধি অনুযায়ী, কেবল সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হতে পারেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রেজাত হোসেন রিটু রামেবির কোনো কর্মকর্তা নন; তিনি প্রকল্পের বহিরাগত চুক্তিভিত্তিক পরামর্শক। ফলে বিধি অনুসারে তিনি কোনোভাবেই মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হতে পারেন না।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, পিপিআর-২০০৮ ও পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্ব পরিহার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রকল্পের ক্রয় পরামর্শককে মূল্যায়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করলে স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঝুঁকি থেকে যায়। কারণ ক্রয় পরামর্শক দরপত্র প্রস্তুত, টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন প্রণয়ন, প্রাক্কলন প্রস্তুত এবং ক্রয় পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকেন।

আবেদনে বলা হয়, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের নৈতিক মানদণ্ড অত্যন্ত উচ্চ হওয়া প্রয়োজন এবং তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হয়। কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক স্বার্থ বা প্রশাসনিক প্রভাব যাতে সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পরামর্শকের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ চলমান রয়েছে এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও আছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দরপত্রে এমন একজনকে সদস্য রাখা হলে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিবেচনায় গঠিত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট দরপত্র বাতিল করে নতুন করে আহ্বানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডা. হাসিবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট টেন্ডারগুলো যে প্রকল্পের, সেই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) উপাচার্য নিজেই। তাই এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

মতামতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রামেবিতে ১ হাজার কোটি টাকার চার দরপত্রে মূল্যায়ন কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ০৬ মার্চ ২০২৬
হোমরাজশাহীরামেবিতে ১ হাজার কোটি টাকার চার দরপত্রে মূল্যায়ন কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ

রামেবিতে ১ হাজার কোটি টাকার চার দরপত্রে মূল্যায়ন কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রামেবিতে ১ হাজার কোটি টাকার চার দরপত্রে মূল্যায়ন কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) স্থাপন প্রকল্পের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের চারটি দরপত্রে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টেক) গঠনে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দরপত্রসমূহ বাতিল এবং কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

সংক্ষুব্ধ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাবাস্সুম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হান্নান বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার এবং দুর্নীতি দমন কমিশন-এর রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালকের কাছেও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি ইজিপি পদ্ধতিতে চারটি দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার নম্বর ১১৬৫৩৭৪, ১১৬৫৪৮৫, ১২১২২৬০ ও ১২০৮৪৪৩। এসব কাজ মূল্যায়নের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টেক) গঠন করা হয়। কিন্তু ওই কমিটিতে একই প্রকল্পের ক্রয় পরামর্শক রেজাত হোসেন রিটুকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পিপিআর-২০২৫ এর ১১(৫) বিধির পরিপন্থি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিধি অনুযায়ী, কেবল সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হতে পারেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রেজাত হোসেন রিটু রামেবির কোনো কর্মকর্তা নন; তিনি প্রকল্পের বহিরাগত চুক্তিভিত্তিক পরামর্শক। ফলে বিধি অনুসারে তিনি কোনোভাবেই মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হতে পারেন না।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, পিপিআর-২০০৮ ও পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্ব পরিহার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রকল্পের ক্রয় পরামর্শককে মূল্যায়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করলে স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঝুঁকি থেকে যায়। কারণ ক্রয় পরামর্শক দরপত্র প্রস্তুত, টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন প্রণয়ন, প্রাক্কলন প্রস্তুত এবং ক্রয় পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকেন।

আবেদনে বলা হয়, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের নৈতিক মানদণ্ড অত্যন্ত উচ্চ হওয়া প্রয়োজন এবং তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হয়। কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক স্বার্থ বা প্রশাসনিক প্রভাব যাতে সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পরামর্শকের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ চলমান রয়েছে এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও আছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দরপত্রে এমন একজনকে সদস্য রাখা হলে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিবেচনায় গঠিত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট দরপত্র বাতিল করে নতুন করে আহ্বানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডা. হাসিবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট টেন্ডারগুলো যে প্রকল্পের, সেই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) উপাচার্য নিজেই। তাই এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

মতামতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রামেবিতে ১ হাজার কোটি টাকার চার দরপত্রে মূল্যায়ন কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬