শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীরাজশাহী বিভাগের ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

রাজশাহী বিভাগের ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

favicon
উপচার ডেস্ক :-
রাজশাহী বিভাগের ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

সরকার গঠনের পর পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হলেও দল গোছানোর কাজ থমকে যাওয়ায় এবং এমপিদের একাংশের বিরুদ্ধে তৃণমূলকে অবমূল্যায়নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহী বিভাগের তৃণমূল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির তৎকালীন চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক বৈঠকে এই ক্ষোভ ও হতাশার কথা প্রকাশ করেন তারা। বৈঠকে উঠে আসে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করার প্রবণতা এবং দীর্ঘমেয়াদে সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগ, জেলা ও মহানগরের ২৫ থেকে ৩০ জন শীর্ষ নেতা আলোচনায় অংশ নেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বহু বছরের নির্যাতন ও ঘাম ঝরানোর পর দল ক্ষমতায় এলেও সাধারণ নেতাকর্মী থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন নির্বাচিত এমপিরা। নিজ নিজ বলয় তৈরি করে তারা পুরোনো ও নির্যাতিত কর্মীদের কোণঠাসা করে রাখছেন। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই পুরনো নেতাকর্মীদের অস্বীকার করার মতো অপ্রত্যাশিত আচরণ করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া অনেক জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বহাল থাকা এবং কাউন্সিল না হওয়ার কারণে দলের ভেতরে এক ধরনের সাংগঠনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানান নেতারা। সরকার ও দল পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমারেখা টানা না গেলে ভবিষ্যতে এর বড় রাজনৈতিক খেসারত দিতে হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেন তারা।

তৃণমূলের এসব অভিযোগের জবাবে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার এবং বাস্তবতার নিরিখে মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারকে সর্বাবস্থায় জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হয়। আগের অনির্বাচিত সরকারের মতো তাদের কোনো দায়বদ্ধতাহীন সুযোগ ছিল না। বিএনপি সবসময় জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবে উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের আচরণে সংযত ও মনমুগ্ধকর হওয়ার আহ্বান জানান। সরকারের ইতিবাচক অর্জনগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলের ভোটারবিহীন ও পাতানো নির্বাচনের সংস্কৃতিতে দেশ আর ফিরে যাবে না। আগামীতে একটি সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ রাখা হবে না জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল দলীয় পরিচয় বা সমর্থন থাকলেই কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারবেন না; এর জন্য সম্পূর্ণভাবে জনগণের মতামতের ওপর নির্ভর করতে হবে। বৈঠকের পর রাজশাহী মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, চেয়ারম্যানের সরাসরি দিকনির্দেশনা ও খোলামেলা আলোচনা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা জুগিয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৪ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীরাজশাহী বিভাগের ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

রাজশাহী বিভাগের ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

favicon
উপচার ডেস্ক :-
রাজশাহী বিভাগের ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

সরকার গঠনের পর পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হলেও দল গোছানোর কাজ থমকে যাওয়ায় এবং এমপিদের একাংশের বিরুদ্ধে তৃণমূলকে অবমূল্যায়নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহী বিভাগের তৃণমূল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির তৎকালীন চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক বৈঠকে এই ক্ষোভ ও হতাশার কথা প্রকাশ করেন তারা। বৈঠকে উঠে আসে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করার প্রবণতা এবং দীর্ঘমেয়াদে সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগ, জেলা ও মহানগরের ২৫ থেকে ৩০ জন শীর্ষ নেতা আলোচনায় অংশ নেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বহু বছরের নির্যাতন ও ঘাম ঝরানোর পর দল ক্ষমতায় এলেও সাধারণ নেতাকর্মী থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন নির্বাচিত এমপিরা। নিজ নিজ বলয় তৈরি করে তারা পুরোনো ও নির্যাতিত কর্মীদের কোণঠাসা করে রাখছেন। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই পুরনো নেতাকর্মীদের অস্বীকার করার মতো অপ্রত্যাশিত আচরণ করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া অনেক জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বহাল থাকা এবং কাউন্সিল না হওয়ার কারণে দলের ভেতরে এক ধরনের সাংগঠনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানান নেতারা। সরকার ও দল পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমারেখা টানা না গেলে ভবিষ্যতে এর বড় রাজনৈতিক খেসারত দিতে হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেন তারা।

তৃণমূলের এসব অভিযোগের জবাবে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার এবং বাস্তবতার নিরিখে মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারকে সর্বাবস্থায় জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হয়। আগের অনির্বাচিত সরকারের মতো তাদের কোনো দায়বদ্ধতাহীন সুযোগ ছিল না। বিএনপি সবসময় জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবে উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের আচরণে সংযত ও মনমুগ্ধকর হওয়ার আহ্বান জানান। সরকারের ইতিবাচক অর্জনগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলের ভোটারবিহীন ও পাতানো নির্বাচনের সংস্কৃতিতে দেশ আর ফিরে যাবে না। আগামীতে একটি সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ রাখা হবে না জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল দলীয় পরিচয় বা সমর্থন থাকলেই কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারবেন না; এর জন্য সম্পূর্ণভাবে জনগণের মতামতের ওপর নির্ভর করতে হবে। বৈঠকের পর রাজশাহী মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, চেয়ারম্যানের সরাসরি দিকনির্দেশনা ও খোলামেলা আলোচনা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা জুগিয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৪ আগস্ট ২০২৬