জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সাংবাদিক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়-প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের দায় নিতে গিয়ে সাংবাদিকরাই প্রথম নিপীড়ন, হুমকি, শারীরিক হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হন। এই বাস্তবতা কেবল উদ্বেগজনকই নয়, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যও মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করে। আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি জানিয়ে দিতে চাই-নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা, ভয়ভীতি, হয়রানি, হামলা বা প্রশাসনিক নিপীড়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভোটকেন্দ্র কিংবা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে কোনো সাংবাদিকের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।
একই সঙ্গে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছে-দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার, হুমকি বা শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটলে সংগঠন নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবে না। প্রয়োজনে বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণাসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ সময় সাংবাদিক সমাজের প্রতিও আমাদের দায়িত্বশীল আহ্বান রয়েছে। নির্বাচনসংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং এমন কোনো আচরণ পরিহার করতে হবে, যা সাংবাদিক নিপীড়নের অজুহাত সৃষ্টি করে বা পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের সময় সকল সাংবাদিককে অবশ্যই নিজ নিজ সাংবাদিকতার বৈধ পরিচয়পত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোটরসাইকেল বা যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখতে হবে। অতীতে এসব কাগজপত্র বহন না করার কারণে বহু সাংবাদিক অহেতুক জিজ্ঞাসাবাদ ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তা, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ, শালীন ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখা আবশ্যক। দায়িত্বশীল ও ভদ্র আচরণই অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা, ভুল বোঝাবুঝি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে-সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না। একই সঙ্গে সচেতনতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদার আচরণ বজায় রেখে সাংবাদিক সমাজ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে তারা নিরাপদ পরিবেশে থেকেই নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে।
লেখক:-
মোঃ নুরে ইসলাম মিলন
সভাপতি
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা
রাজশাহী বিভাগ।
যুগ্ম-সম্পাদক
দৈনিক উপচার।