শনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদস্ক্রিনের দাসত্ব বনাম মানবিক ভবিষ্যৎ

স্ক্রিনের দাসত্ব বনাম মানবিক ভবিষ্যৎ

ডিজিটাল আসক্তির গ্রাসে তরুণ প্রজন্ম
favicon
মো. নুরে ইসলাম মিলন:-
স্ক্রিনের দাসত্ব বনাম মানবিক ভবিষ্যৎ

​বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি তৈরি করেছে এক অদৃশ্য কিন্তু ভয়াবহ সংকট-ডিজিটাল আসক্তি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আজ এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধির সবচেয়ে বড় শিকার। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেম এখন আর শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং অনেকের কাছে এগুলো হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। ফলে আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এক প্রশ্ন সামনে এসেছে-আমরা কি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি, নাকি প্রযুক্তিই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে?


​বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এখন জাতীয় উদ্বেগের বিষয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের শহর ও গ্রামীণ-উভয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল অংশ প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ব্যয় করছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ইন্টারনেটে বুঁদ হয়ে থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হচ্ছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন মনোরোগ হাসপাতালে বিষণ্ণতা, তীব্র একাকীত্ব এবং আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে আসা কিশোর-কিশোরীদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। অনেক পরিবারে দেখা যাচ্ছে, একই ঘরে, একই টেবিলে বসেও মা-বাবা ও সন্তান কেউ কারও সাথে কথা বলছেন না; প্রত্যেকেই ডুবে আছেন নিজের ফোনের ভার্চুয়াল জগতে। বাস্তব জীবনের এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা পারিবারিক বন্ধনগুলোকে ভেতরে ভেতরে ফাপা করে দিচ্ছে।


​ডিজিটাল আসক্তির অন্যতম বড় উপজাত হলো সময়ের অপচয় ও মেধার অবক্ষয়। একজন শিক্ষার্থী যদি দিনের সিংহভাগ সময় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের রিলস বা টিকটকের শর্ট ভিডিও এবং পাবজি বা ফ্রি ফায়ারের মতো অনলাইন গেমে ব্যয় করে, তবে তার পড়াশোনা, শারীরিক ব্যায়াম ও সৃজনশীল কাজের সুযোগ খর্ব হতে বাধ্য। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাবজি বা ফ্রি ফায়ার গেমের ডায়মন্ড কেনা বা ইন্টারনেটের টাকা না পেয়ে কিশোরদের আত্মহত্যা কিংবা মা-বাবাকে আঘাত করার মতো একাধিক নৃশংস ঘটনা সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছে। অনলাইন গেমের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি তরুণদের বাস্তব জগৎ থেকে এতটাই দূরে নিয়ে যাচ্ছে যে, তারা এক কাল্পনিক ও সহিংস জগতে বাস করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে মানসিক ও সামাজিক হীনম্মন্যতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনের ‘সাজানো’ ও কৃত্রিম সাফল্য দেখে অনেক তরুণ নিজেদেরকে ব্যর্থ মনে করতে শুরু করে। তৈরি হচ্ছে তীব্র হতাশা, উদ্বেগ ও আত্মবিশ্বাসের সংকট। এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ অনেক ক্ষেত্রে তরুণদের আত্মঘাতী প্রবণতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা একটি সুস্থ সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত।


​এই সংকটের পেছনে শুধু তরুণদের একক দোষ দেওয়া চলে না; এর পেছনে কিছু কাঠামোগত কারণও বিদ্যমান। কর্মব্যস্ততার কারণে পরিবারে সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া এবং অনেক অভিভাবক শিশুকে শান্ত রাখতে বা নিজেরা প্রযুক্তিতে মগ্ন থাকতে সন্তানের হাতে শৈশবেই ডিভাইস তুলে দিচ্ছেন, যা পরবর্তীতে আসক্তিতে রূপ নিচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির সঠিক ও ইতিবাচক ব্যবহার তথা ডিজিটাল লিটারেসি শেখানোর অভাব এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ বা বিনোদন কেন্দ্রের তীব্র অভাব তরুণদের স্ক্রিনমুখী হতে বাধ্য করছে।


​এই জাতীয় সংকট থেকে উত্তরণের পথ কোনো একক পক্ষের পক্ষে খোঁজা সম্ভব নয়; এর জন্য ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-এই চার স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। তরুণদের সবার আগে বুঝতে হবে যে প্রযুক্তি একটি টুল মাত্র, এটি জীবনের বিকল্প নয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার না করার আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ডিজিটাল ডিটক্স তৈরি করতে হবে এবং ভার্চুয়াল স্ক্রিন ছেড়ে বই পড়া, মাঠের খেলাধুলা ও বাস্তব সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং তাদের অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজর রাখা। তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা বা ডিভাইস কেড়ে নেওয়া সমাধান নয়, বরং বিকল্প বিনোদনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সন্তানকে সাথে নিয়ে ভ্রমণ, পারিবারিক আড্ডা এবং সৃজনশীল কাজে তাদের যুক্ত রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, অভিভাবকদের নিজেদেরও স্ক্রিন টাইম কমিয়ে সন্তানের সামনে সঠিক উদাহরণ তৈরি করতে হবে।


​সামাজিকভাবে স্কুল-কলেজগুলোতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও সময় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলাদা সচেতনতামূলক সেশন বা পাঠ্যক্রম চালু করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে, স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের জন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর, অশ্লীল ও সহিংস অনলাইন কনটেন্ট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ক্ষতিকর অনলাইন গেমগুলোর সহজলভ্যতা বন্ধে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করতে হবে, যেন আসক্তির প্রাথমিক স্তরেই তরুণরা প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা পেতে পারে।
​পরিশেষে বলা যায়, প্রযুক্তি আমাদের শত্রু নয়, কিন্তু এর অপব্যবহার ও আসক্তিই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি মানবিকতাহীন, সম্পর্কহীন এবং আবেগহীন কৃত্রিম সমাজে অবয়ব নিয়ে বড় হবে-যেখানে বাস্তবতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। তাই সময় এসেছে থেমে ভাবার-আমরা কি স্ক্রিনের দাস হয়ে যাব, নাকি নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক বোধ ফিরিয়ে আনব? সঠিক সিদ্ধান্তটি আজই নিতে হবে, কারণ আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব নির্ভর করছে আমাদের বর্তমান সচেতনতার ওপর।


​লেখক:
মো. নুরে ইসলাম মিলন
ই-মেইল: milonraj2012@gmail.com

স্ক্রিনের দাসত্ব বনাম মানবিক ভবিষ্যৎ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদস্ক্রিনের দাসত্ব বনাম মানবিক ভবিষ্যৎ

স্ক্রিনের দাসত্ব বনাম মানবিক ভবিষ্যৎ

ডিজিটাল আসক্তির গ্রাসে তরুণ প্রজন্ম
favicon
মো. নুরে ইসলাম মিলন:-
স্ক্রিনের দাসত্ব বনাম মানবিক ভবিষ্যৎ

​বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি তৈরি করেছে এক অদৃশ্য কিন্তু ভয়াবহ সংকট-ডিজিটাল আসক্তি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আজ এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধির সবচেয়ে বড় শিকার। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেম এখন আর শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং অনেকের কাছে এগুলো হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। ফলে আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এক প্রশ্ন সামনে এসেছে-আমরা কি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি, নাকি প্রযুক্তিই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে?


​বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এখন জাতীয় উদ্বেগের বিষয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের শহর ও গ্রামীণ-উভয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল অংশ প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ব্যয় করছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ইন্টারনেটে বুঁদ হয়ে থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হচ্ছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন মনোরোগ হাসপাতালে বিষণ্ণতা, তীব্র একাকীত্ব এবং আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে আসা কিশোর-কিশোরীদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। অনেক পরিবারে দেখা যাচ্ছে, একই ঘরে, একই টেবিলে বসেও মা-বাবা ও সন্তান কেউ কারও সাথে কথা বলছেন না; প্রত্যেকেই ডুবে আছেন নিজের ফোনের ভার্চুয়াল জগতে। বাস্তব জীবনের এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা পারিবারিক বন্ধনগুলোকে ভেতরে ভেতরে ফাপা করে দিচ্ছে।


​ডিজিটাল আসক্তির অন্যতম বড় উপজাত হলো সময়ের অপচয় ও মেধার অবক্ষয়। একজন শিক্ষার্থী যদি দিনের সিংহভাগ সময় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের রিলস বা টিকটকের শর্ট ভিডিও এবং পাবজি বা ফ্রি ফায়ারের মতো অনলাইন গেমে ব্যয় করে, তবে তার পড়াশোনা, শারীরিক ব্যায়াম ও সৃজনশীল কাজের সুযোগ খর্ব হতে বাধ্য। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাবজি বা ফ্রি ফায়ার গেমের ডায়মন্ড কেনা বা ইন্টারনেটের টাকা না পেয়ে কিশোরদের আত্মহত্যা কিংবা মা-বাবাকে আঘাত করার মতো একাধিক নৃশংস ঘটনা সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছে। অনলাইন গেমের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি তরুণদের বাস্তব জগৎ থেকে এতটাই দূরে নিয়ে যাচ্ছে যে, তারা এক কাল্পনিক ও সহিংস জগতে বাস করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে মানসিক ও সামাজিক হীনম্মন্যতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনের ‘সাজানো’ ও কৃত্রিম সাফল্য দেখে অনেক তরুণ নিজেদেরকে ব্যর্থ মনে করতে শুরু করে। তৈরি হচ্ছে তীব্র হতাশা, উদ্বেগ ও আত্মবিশ্বাসের সংকট। এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ অনেক ক্ষেত্রে তরুণদের আত্মঘাতী প্রবণতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা একটি সুস্থ সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত।


​এই সংকটের পেছনে শুধু তরুণদের একক দোষ দেওয়া চলে না; এর পেছনে কিছু কাঠামোগত কারণও বিদ্যমান। কর্মব্যস্ততার কারণে পরিবারে সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া এবং অনেক অভিভাবক শিশুকে শান্ত রাখতে বা নিজেরা প্রযুক্তিতে মগ্ন থাকতে সন্তানের হাতে শৈশবেই ডিভাইস তুলে দিচ্ছেন, যা পরবর্তীতে আসক্তিতে রূপ নিচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির সঠিক ও ইতিবাচক ব্যবহার তথা ডিজিটাল লিটারেসি শেখানোর অভাব এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ বা বিনোদন কেন্দ্রের তীব্র অভাব তরুণদের স্ক্রিনমুখী হতে বাধ্য করছে।


​এই জাতীয় সংকট থেকে উত্তরণের পথ কোনো একক পক্ষের পক্ষে খোঁজা সম্ভব নয়; এর জন্য ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-এই চার স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। তরুণদের সবার আগে বুঝতে হবে যে প্রযুক্তি একটি টুল মাত্র, এটি জীবনের বিকল্প নয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার না করার আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ডিজিটাল ডিটক্স তৈরি করতে হবে এবং ভার্চুয়াল স্ক্রিন ছেড়ে বই পড়া, মাঠের খেলাধুলা ও বাস্তব সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং তাদের অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজর রাখা। তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা বা ডিভাইস কেড়ে নেওয়া সমাধান নয়, বরং বিকল্প বিনোদনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সন্তানকে সাথে নিয়ে ভ্রমণ, পারিবারিক আড্ডা এবং সৃজনশীল কাজে তাদের যুক্ত রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, অভিভাবকদের নিজেদেরও স্ক্রিন টাইম কমিয়ে সন্তানের সামনে সঠিক উদাহরণ তৈরি করতে হবে।


​সামাজিকভাবে স্কুল-কলেজগুলোতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও সময় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলাদা সচেতনতামূলক সেশন বা পাঠ্যক্রম চালু করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে, স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের জন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর, অশ্লীল ও সহিংস অনলাইন কনটেন্ট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ক্ষতিকর অনলাইন গেমগুলোর সহজলভ্যতা বন্ধে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করতে হবে, যেন আসক্তির প্রাথমিক স্তরেই তরুণরা প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা পেতে পারে।
​পরিশেষে বলা যায়, প্রযুক্তি আমাদের শত্রু নয়, কিন্তু এর অপব্যবহার ও আসক্তিই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি মানবিকতাহীন, সম্পর্কহীন এবং আবেগহীন কৃত্রিম সমাজে অবয়ব নিয়ে বড় হবে-যেখানে বাস্তবতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। তাই সময় এসেছে থেমে ভাবার-আমরা কি স্ক্রিনের দাস হয়ে যাব, নাকি নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক বোধ ফিরিয়ে আনব? সঠিক সিদ্ধান্তটি আজই নিতে হবে, কারণ আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব নির্ভর করছে আমাদের বর্তমান সচেতনতার ওপর।


​লেখক:
মো. নুরে ইসলাম মিলন
ই-মেইল: milonraj2012@gmail.com

স্ক্রিনের দাসত্ব বনাম মানবিক ভবিষ্যৎ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১১ জুলাই ২০২৬