মেধার স্বীকৃতিতে ৪৮২ শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি
"শিক্ষায় বিনিয়োগ মানেই দেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্মই আগামী বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে। তাই মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল কোনো শিক্ষার্থী যেন অর্থাভাবে লেখাপড়া থেকে ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাবৃত্তি ও সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।"-এমন মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর মনিচত্বরস্থ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে এবং উন্নত বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়ন, অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই শিক্ষাখাতে বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার শিক্ষাবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে আর্থিক সীমাবদ্ধতা কোনো শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারের উদ্যোগই নয়, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকেও শিক্ষার প্রসারে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো মানেই দেশের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, ঝরে পড়ার হার কমানো এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী (ঈশা)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা। এছাড়াও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সুধীজন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল ৪৮২ জন শিক্ষার্থীর হাতে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ২৪ লাখ ১০ হাজার টাকার এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়। পরে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক প্রদান করেন।
শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও অনুপ্রেরণাদায়ক উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হলে মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার পথে আরও দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষায় এ ধরনের বিনিয়োগই ভবিষ্যতে একটি দক্ষ, মানবসম্পদনির্ভর এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।