মায়ের শেষ দেখা পেলেন সীমান্তপারের মেয়ে
মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সীমান্তের কাঁটাতারের বাধা পেরিয়ে এক মাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেলেন তাঁর কন্যা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের এক নারীর মরদেহ ভারতীয় স্বজনদের দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শিবগঞ্জ সীমান্তের কিরণগঞ্জ বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩-এস এর নিকট শূন্য লাইনে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে মরদেহ দেখার এই হৃদয়স্পর্শী আয়োজন সম্পন্ন হয়। এ সময় সীমান্তের দুই পাশেই ছিল নীরবতা আর আবেগঘন পরিবেশ।
এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা তারা বানু বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ভারতের মালদা জেলায় বসবাসরত তাঁর মেয়ে মোছা. মালেকা বেগমসহ কয়েকজন নিকটাত্মীয় শেষবারের মতো মরদেহ দেখার আকুতি জানান। তারা বিএসএফের মাধ্যমে বিজিবির কাছে অনুমতি চাইলে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় বিজিবি।
৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, ভারতীয় স্বজনদের আবেদনের পরপরই সীমান্তের নিয়মনীতি বজায় রেখে মানবিক সহানুভূতির জায়গা থেকে এই ব্যবস্থা করা হয়। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখে আবেগে ভেঙে পড়েন মৃতের মেয়ে ও স্বজনরা। এ সময় তারা বিজিবি ও বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সীমান্তের কড়াকড়ি বাস্তবতায় এমন মানবিক উদ্যোগ দুই দেশের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও মানবিকতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।