দক্ষিণ সুদান ও আবেই মিশন পরিদর্শন শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউএনমিস (দক্ষিণ সুদান) ও ইউনিসফা (আবেই)-তে পাঁচ দিনের সফল সরকারি সফর শেষ করে দেশের উদ্দেশ্যে প্রত্যাবর্তন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এই সফরকালে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। সেনাপ্রধানের এই সফর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সুনাম ও অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সফরকালে সেনাপ্রধান দক্ষিণ সুদানে মোতায়েনকৃত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি, পদাতিক ব্যাটালিয়ন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি আবেই এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক ব্যাটালিয়নের কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন তিনি। মিশন এলাকাগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশে তিনি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, সততা ও সতর্কতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া সেখানে নিয়োজিত বাংলাদেশি স্টাফ অফিসার, সামরিক অবজারভার এবং বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের সদস্যদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং মিশনের বর্তমান অপারেশনাল পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।
কূটনৈতক ও অফিশিয়াল এই সফরের অংশ হিসেবে সেনাপ্রধান ইউএনমিস-এর ফোর্স কমান্ডার মেজর জেনারেল জুনহুই উ এবং ইউনিসফা-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল গণেশ কুমার শ্রেষ্ঠের সঙ্গে পৃথকভাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের বহুমুখী দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আবেই অঞ্চলের মিশন লিডারশিপ টিম এবং সুদান ও দক্ষিণ সুদানের ন্যাশনাল মনিটরগণের সঙ্গেও তার ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এর ধারাবাহিকতায় সেনাপ্রধান দক্ষিণ সুদানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চল থন বালোক এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান জেনারেল সান্টিনো ডেং ওলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। দক্ষিণ সুদান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক বৃদ্ধির নানা দিক উঠে আসে। এ সময় দক্ষিণ সুদান প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে সেনাপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধানের এই উচ্চপর্যায়ের সফর বিদেশে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের মানসিক শক্তি ও মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ এবং সংশ্লিষ্ট স্বাগতিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সুদৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও একধাপ এগিয়ে নেবে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পরিধি ও অবদান আরও সম্প্রসারণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।