চাঁদা দাবি নিয়ে উত্তেজনা, রাজশাহীতে বিএনপি কর্মীকে মারধর
রাজশাহীর পবা উপজেলায় রাস্তার কাজকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগে সংঘর্ষের ঘটনায় এক বিএনপি কর্মী পিটুনির শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, স্থানীয় একটি রাস্তার উন্নয়নকাজ চলাকালে ঠিকাদারের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি আতাবুর রহমান নওহাটা পৌরসভার বাঘাটা মহল্লার বাসিন্দা। তিনি নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় একটি রাস্তার কাজ শুরু হলে স্থানীয় যুবদল কর্মী আজাদ আলী ঠিকাদারের কাছ থেকে মাটি কাটার কাজ নেন। কাজ শুরুর পর আতাবুর রহমান সেখানে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। আজাদ আলীর দাবি, আতাবুর তাকে কাজ করতে হলে টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেন এবং টাকা না দিলে ভেকু ভেঙে দেওয়ার কথাও বলেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন আতাবুরকে মারধর করে।
আজাদ আলী আরও জানান, ঘটনার পর তিনি ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার বিপ্লব হোসেন পবা থানায় যান। এ সময় আতাবুর তার লোকজন নিয়ে থানার সামনে এসে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন।
ঘটনার বিষয়ে নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, আজাদ যুবদল কর্মী এবং আতাবুরও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। একই দলের লোকের কাছে চাঁদা চাইতে যাওয়ার বিষয়টি অযৌক্তিক। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে আতাবুর বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি করে আসছেন এবং যারা তাকে আশ্রয় দেয়, তারাও সুবিধা ভোগ করছে।
অন্যদিকে নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মকবুল হোসেন বলেন, এটি মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হওয়া ঘটনা। বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।