মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › রাজশাহী › নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার

নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার

favicon
নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার

শিশুদের খেলার ছলে সামান্য ধাক্কাধাক্কির জেরে সাত বছরের এক শিশুর ডান হাতের শাহাদাত আঙুল বঁটি দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। নাটোর শহরের বড়হরিশপুর এলাকার এই নির্মম ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে বিচ্ছিন্ন আঙুলটি জোড়া লাগাতে ব্যর্থ হন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শাকিল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী নাহরিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির নাম বায়েজিদ বিন মাহমুদ (৭)। সে নাটোর শহরের বড়হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান মিলনের ছেলে। অভিযুক্ত শাকিল হোসেন কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে কর্মরত এবং তিনি মিলনের বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িটিতে ভাড়াটিয়া ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে কনস্টেবল শাকিলের সাড়ে চার বছরের মেয়ের সঙ্গে শিশু বায়েজিদের সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উভয় পরিবারের বড়রা বসে মীমাংসা করে দেন। তবে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে শাকিল ও তাঁর স্ত্রী নাহরিন ক্ষিপ্ত হয়ে নিচতলার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন এবং বায়েজিদকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে তিন তলায় তাঁদের ঘরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্বজনরা বাধা দিলে তাঁদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বায়েজিদকে ঘরে ঢুকিয়ে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিশুটির ভাষ্যমতে, ঘরে নিয়ে যাওয়ার পর কনস্টেবল শাকিলের স্ত্রী নাহরিন তার ডান হাত শক্ত করে চেপে ধরেন এবং শাকিল ধারালো বঁটি দিয়ে শাহাদাত আঙুলে একাধিক কোপ বসিয়ে তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

শিশুর আর্তচিৎকারে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচ্ছিন্ন আঙুলটি হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় চিকিৎসকরা তা আর প্রতিস্থাপন করতে পারেননি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, অস্ত্রোপচারের দুই দফা চেষ্টা সত্ত্বেও আঙুলটি জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি। বিচ্ছিন্ন অংশটি পাওয়ার পর হাসপাতালে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হওয়ার কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত দম্পতি ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে সরে পড়েন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘরের ভেতরে পড়ে থাকা বিচ্ছিন্ন আঙুলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘক্ষণ পর কক্ষের মেঝে থেকে বিচ্ছিন্ন অংশটি উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়, যা চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ শাকিল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী নাহরিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান জানান, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত দুজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › রাজশাহী › নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার

নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার

favicon
নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার

শিশুদের খেলার ছলে সামান্য ধাক্কাধাক্কির জেরে সাত বছরের এক শিশুর ডান হাতের শাহাদাত আঙুল বঁটি দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। নাটোর শহরের বড়হরিশপুর এলাকার এই নির্মম ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে বিচ্ছিন্ন আঙুলটি জোড়া লাগাতে ব্যর্থ হন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শাকিল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী নাহরিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির নাম বায়েজিদ বিন মাহমুদ (৭)। সে নাটোর শহরের বড়হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান মিলনের ছেলে। অভিযুক্ত শাকিল হোসেন কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে কর্মরত এবং তিনি মিলনের বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িটিতে ভাড়াটিয়া ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে কনস্টেবল শাকিলের সাড়ে চার বছরের মেয়ের সঙ্গে শিশু বায়েজিদের সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উভয় পরিবারের বড়রা বসে মীমাংসা করে দেন। তবে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে শাকিল ও তাঁর স্ত্রী নাহরিন ক্ষিপ্ত হয়ে নিচতলার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন এবং বায়েজিদকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে তিন তলায় তাঁদের ঘরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্বজনরা বাধা দিলে তাঁদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বায়েজিদকে ঘরে ঢুকিয়ে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিশুটির ভাষ্যমতে, ঘরে নিয়ে যাওয়ার পর কনস্টেবল শাকিলের স্ত্রী নাহরিন তার ডান হাত শক্ত করে চেপে ধরেন এবং শাকিল ধারালো বঁটি দিয়ে শাহাদাত আঙুলে একাধিক কোপ বসিয়ে তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

শিশুর আর্তচিৎকারে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচ্ছিন্ন আঙুলটি হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় চিকিৎসকরা তা আর প্রতিস্থাপন করতে পারেননি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, অস্ত্রোপচারের দুই দফা চেষ্টা সত্ত্বেও আঙুলটি জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি। বিচ্ছিন্ন অংশটি পাওয়ার পর হাসপাতালে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হওয়ার কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত দম্পতি ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে সরে পড়েন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘরের ভেতরে পড়ে থাকা বিচ্ছিন্ন আঙুলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘক্ষণ পর কক্ষের মেঝে থেকে বিচ্ছিন্ন অংশটি উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়, যা চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ শাকিল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী নাহরিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান জানান, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত দুজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬