চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার বিশেষ অভিযান
মৌসুমি ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধ, এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে গঠিত ৭ নম্বর টিমের তত্ত্বাবধানে পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন ঘোষপাড়া, তেলীপাড়া, জান্নাতপাড়া, ভবানীপুর, ফতেপুর এবং নামো শংকর বাটী উচ্চ বিদ্যালয়সহ সংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিশেষ অভিযান’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানির উৎস ও সম্ভাব্য লার্ভার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে ড্রেন ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়।
অভিযান চলাকালে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি ও প্রতিকার সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার তাগিদ দেন।
এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষের প্রতিনিধি ফারুক হোসেন, সাংবাদিক প্রতিনিধি ফয়সাল আজম অপু ও জাকির হোসেন পিংকু। এছাড়া নামো শংকর বাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন টিমের সদস্যরা অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।
কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ স্থায়ীভাবে রুখতে কেবল সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক মশক নিধন কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র ও ড্রেনে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সচেতন না হলে এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়।
পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বার্থ রক্ষায় এবং ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে এই সমন্বিত বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।