সম্প্রীতির মেলবন্ধনে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি মানবিক, সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতা অর্জনের মতো দেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞেও সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবহমান বাংলার এই পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিই আগামী দিনের পথচলার প্রধান শক্তি।
মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পাগলাপীরে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাতে ও স্থানীয় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে তিনি এ সফরে আসেন। এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রংপুর অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীও গাড়ির ভেতর থেকে হাত নেড়ে জনতার ভালোবাসার জবাব দেন।
পথসভায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—সবার যৌথ ত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কাউকেই পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। সম্মিলিত শ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে তোলাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সরকার প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নানামুখী কল্যাণমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে অসচ্ছল পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং প্রান্তিক কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে কৃষিঋণ মওকুফসহ বহুল প্রত্যাশিত ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য নিয়মিত মাসিক ভাতার কার্যকর বন্দোবস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় মেহনতি মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষাই অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।