মঙ্গলবার , ২০ অক্টোবর ২০২৬
হোম › আজকের শীর্ষ সংবাদ › শহীদ পরিবারকে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

শহীদ পরিবারকে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

favicon
উপচার ডেস্ক :-
শহীদ পরিবারকে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং সার্বিক আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে শহীদ পরিবারের পিতা-মাতাদের সাথে নিয়ে এই স্মৃতিস্তম্ভ ও উদ্যানের আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করেন সরকারপ্রধান।

সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ওসমানী উদ্যানে এসে পৌঁছান। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীকী ব্যক্তিত্ব শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করেন। উদ্বোধনের পর শহীদদের স্মরণে বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দিয়ে একটি স্মারক বৃক্ষের চারা রোপণ করেন। পরবর্তীতে তিনি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ওসমানী উদ্যান ঘুরে দেখেন এবং উদ্যান চত্বরে নবনির্মিত গণগ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।

উদ্বোধনী আয়োজনে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মহান আত্মত্যাগকে দৃশ্যমান ও চিরভাস্বর করে রাখতে প্রায় এক একর ভূমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। এই স্তম্ভের মূল কাঠামোতে উন্নত লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে খোদাই করে তুলে ধরা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। স্মৃতিস্তম্ভের সম্মুখভাগে স্থান পেয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক। এছাড়া স্তম্ভের বাইরের অংশে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরের অংশে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের কালানুক্রমিক ইতিহাস। যার মধ্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সন্নিবেশিত হয়েছে।

অন্যদিকে পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত প্রায় ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানকে রূপান্তর করা হয়েছে এক আধুনিক, নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব নাগরিক বিনোদনকেন্দ্রে। মূল প্রকল্পের আওতায় উদ্যানের পুরোনো জলাশয় সংস্কার ছাড়াও নতুন করে পাঁচটি জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যমান বৃক্ষরাজির সুরক্ষার পাশাপাশি রোপণ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ নতুন গাছপালা এবং গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক সবুজ দ্বীপ। শরীরচর্চা ও প্রাতঃভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে এতে তৈরি করা হয়েছে ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আধুনিক হাঁটার পথ, উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার, দৃষ্টিনন্দন প্যাগোডা, আধুনিক গণশৌচাগার, গাড়ি পার্কিং সুবিধা ও জলাশয় সংলগ্ন আকর্ষণীয় ঘাট। পরিবেশ সুরক্ষায় রাখা হয়েছে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং দুই স্তরে সাজানো এই উদ্যানের সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে পথচারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে দ্রুত চলাচলের বিশেষ ওয়াকওয়ে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় সবুজের সমারোহ বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিক অবকাশের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

শহীদ পরিবারকে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ২০ অক্টোবর ২০২৬
হোম › আজকের শীর্ষ সংবাদ › শহীদ পরিবারকে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

শহীদ পরিবারকে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

favicon
উপচার ডেস্ক :-
শহীদ পরিবারকে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং সার্বিক আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে শহীদ পরিবারের পিতা-মাতাদের সাথে নিয়ে এই স্মৃতিস্তম্ভ ও উদ্যানের আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করেন সরকারপ্রধান।

সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ওসমানী উদ্যানে এসে পৌঁছান। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীকী ব্যক্তিত্ব শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করেন। উদ্বোধনের পর শহীদদের স্মরণে বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দিয়ে একটি স্মারক বৃক্ষের চারা রোপণ করেন। পরবর্তীতে তিনি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ওসমানী উদ্যান ঘুরে দেখেন এবং উদ্যান চত্বরে নবনির্মিত গণগ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।

উদ্বোধনী আয়োজনে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মহান আত্মত্যাগকে দৃশ্যমান ও চিরভাস্বর করে রাখতে প্রায় এক একর ভূমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। এই স্তম্ভের মূল কাঠামোতে উন্নত লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে খোদাই করে তুলে ধরা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। স্মৃতিস্তম্ভের সম্মুখভাগে স্থান পেয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক। এছাড়া স্তম্ভের বাইরের অংশে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরের অংশে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের কালানুক্রমিক ইতিহাস। যার মধ্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সন্নিবেশিত হয়েছে।

অন্যদিকে পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত প্রায় ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানকে রূপান্তর করা হয়েছে এক আধুনিক, নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব নাগরিক বিনোদনকেন্দ্রে। মূল প্রকল্পের আওতায় উদ্যানের পুরোনো জলাশয় সংস্কার ছাড়াও নতুন করে পাঁচটি জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যমান বৃক্ষরাজির সুরক্ষার পাশাপাশি রোপণ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ নতুন গাছপালা এবং গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক সবুজ দ্বীপ। শরীরচর্চা ও প্রাতঃভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে এতে তৈরি করা হয়েছে ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আধুনিক হাঁটার পথ, উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার, দৃষ্টিনন্দন প্যাগোডা, আধুনিক গণশৌচাগার, গাড়ি পার্কিং সুবিধা ও জলাশয় সংলগ্ন আকর্ষণীয় ঘাট। পরিবেশ সুরক্ষায় রাখা হয়েছে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং দুই স্তরে সাজানো এই উদ্যানের সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে পথচারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে দ্রুত চলাচলের বিশেষ ওয়াকওয়ে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় সবুজের সমারোহ বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিক অবকাশের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

শহীদ পরিবারকে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ অক্টোবর ২০২৬