সিনেমা হল আধুনিকায়ন ও চলচ্চিত্রশিল্প রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আশ্বাস তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
দেশের ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্রশিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা, প্রেক্ষাগৃহগুলোর আধুনিকায়ন এবং সাধারণ দর্শকদের ফের হলমুখী করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সোমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চলচ্চিত্রশিল্পের সুষম ও টেকসই বিকাশে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং সেই নির্দেশনার আলোকেই সরকার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। স্মার্টফোন বা ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের কারণে সিনেমা হলের আবেদন ফুরিয়ে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, বড় রূপালি পর্দায় দলবেঁধে বসে সিনেমা দেখার যে সার্বজনীন আবেগ ও অভিজ্ঞতা, তা কখনোই ব্যক্তিগত ছোট স্ক্রিনে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সমসাময়িক বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো কেন পিছিয়ে পড়ছে, সেই মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান বের করা জরুরি।
প্রেক্ষাগৃহ সংকট নিরসনে সরকারের আলোচিত এক হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল বা বিশেষ বরাদ্দের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দ্রুতই যৌথ আলোচনায় বসা হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই তহবিল যেন কেবল অভিজাত সিনেপ্লেক্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোর আধুনিকায়ন ও সংস্কারেও কাজে আসে, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রেক্ষাগৃহের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকরের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশীয় চলচ্চিত্রের বর্তমান সংকট উত্তরণে চিত্রনাট্যের মানোন্নয়ন এবং দক্ষ অভিনয়শিল্পীর ঘাটতি পূরণের ওপর জোর দেন ইয়াসের খান চৌধুরী। এ লক্ষ্যে বিএফডিসির ব্যবস্থাপনায় মেধা অন্বেষণের ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্ম নতুন মুখের সন্ধানে কর্মসূচি ফের চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। অন্যদিকে, ভিনদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ক্ষেত্রে দেশের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশীয় কলাকুশলীদের স্বার্থ পুরোপুরি সমুন্নত রেখে বিদ্যমান নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
উক্ত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রদর্শক সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রেক্ষাগৃহ বাঁচাতে সরকারের কাছে তাদের বিদ্যমান নানা সংকটের কথা তুলে ধরেন এবং সরকারের ইতিবাচক মনোভাবকে সাধুবাদ জানান।