দুর্গাপুরে জসিমের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় সাংবাদিকের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার গোড়খাই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল হাকিমের ছেলে এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক হাসানুজ্জামান হাসানের ভাই সাংবাদিক আব্দুল মজিদ জসিমের ওপর এই নৃশংস আক্রমণ চালানো হয়। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র ক্ষোভ ও জোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থার রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মো. নুরে ইসলাম মিলন এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজম অপু এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন।
জানা গেছে, গোড়খাই গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী শফিকুল ইসলাম ও রেন্টুর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাংবাদিক আব্দুল মজিদ জসিমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ্য হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি স্থানীয় প্রশাসন।
অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়, হামলার মতো এমন একটি মারাত্মক ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুর্গাপুর থানা পুলিশের কোনো দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়নি।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় পেশাদার সাংবাদিকরা সশরীরে থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত এজাহার জমা দিতে চাইলেও দুর্গাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
থানা পুলিশের এমন দায়িত্বহীন ও রহস্যজনক নীরবতার সুযোগ নিয়ে চিহ্নিত হামলাকারীরা এলাকায় প্রকাশ্যে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে অব্যাহত ভীতি প্রদর্শন করে চলেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন পক্ষপাতমূলক ও নিষ্ক্রিয় আচরণ দুর্গাপুর থানা প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে জনমনে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী শফিকুল ইসলাম ও রেন্টুসহ হামলায় জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের রহস্যজনক আচরণ, দায়িত্বে অবহেলা এবং অভিযোগ গ্রহণে টালবাহানার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।