রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিল?
কুমিল্লায় আইফোনের লোভে কুবি শিক্ষকের সন্তানকে হত্যা

‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিল?

favicon
উপচার ডেস্ক :-
‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিল?
কুবি শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের বুকফাটা আহাজারি।

‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি জানতে চাই। আমাকে জবাব দেন। আমি কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? একটা ছেলে বাসা থেকে বের হবে, আর তাকে মেরে ফেলবে!’ একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এভাবেই বুকফাটা আর্তনাদে মূর্ছা যাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক ড. নাহিদা বেগম। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজের প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা পর ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে গভীর জঙ্গল থেকে। মাথার পেছনে ভারী বস্তুর গুরুতর আঘাত নিয়ে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেছে সপ্তম শ্রেণির এই মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রাণ।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে পরিবারের সঙ্গে বসবাসরত কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোনটি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বের হয় অপ্রতিম। তবে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও সে আর ঘরে ফেরেনি। উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর রাতেই সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা। সন্তানকে অক্ষত ফিরে পেতে আকুল আবেদন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিখোঁজ সংবাদ পোস্ট করেন মা ড. নাহিদা বেগম। কিন্তু সব আশা ধূলিসাৎ করে শনিবার দুপুরে কোটবাড়ির দক্ষিণ মোড় সংলগ্ন নির্জন এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় তার রক্তাক্ত মরদেহ।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত অপ্রতিমের হাতের মুঠোফোনটির সর্বশেষ নেটওয়ার্ক লোকেশন গন্ধমতী এলাকাতেই সচল ছিল; এরপর থেকেই সেটি পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, মূলত দামি আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই নির্জন স্থানে নিয়ে নির্মমভাবে মাথায় আঘাত করে কিশোর অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে।

সন্তান হারানোর শোকে স্তব্ধ বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘ফোনের দাম আছে, কিন্তু একটা মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই? সে অন্যায় করলে তাকে শাসন করত, মেরে ফেলবে কেন?’ এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের দ্রুত শনাক্ত ও সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল ও নিহতের বাসা পরিদর্শন করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান (পিপিএম) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমানসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ সূত্র উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান বিরতিহীনভাবে অব্যাহত থাকবে।

এদিকে শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের বাসায় গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর বিচারের আশ্বাস দেন। অন্যদিকে শিক্ষকের নিষ্পাপ সন্তান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক ফাঁসির দাবিতে শনিবার বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিল?
কুমিল্লায় আইফোনের লোভে কুবি শিক্ষকের সন্তানকে হত্যা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিল?
কুমিল্লায় আইফোনের লোভে কুবি শিক্ষকের সন্তানকে হত্যা

‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিল?

favicon
উপচার ডেস্ক :-
‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিল?
কুবি শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের বুকফাটা আহাজারি।

‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি জানতে চাই। আমাকে জবাব দেন। আমি কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? একটা ছেলে বাসা থেকে বের হবে, আর তাকে মেরে ফেলবে!’ একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এভাবেই বুকফাটা আর্তনাদে মূর্ছা যাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক ড. নাহিদা বেগম। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজের প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা পর ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে গভীর জঙ্গল থেকে। মাথার পেছনে ভারী বস্তুর গুরুতর আঘাত নিয়ে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেছে সপ্তম শ্রেণির এই মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রাণ।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে পরিবারের সঙ্গে বসবাসরত কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোনটি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বের হয় অপ্রতিম। তবে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও সে আর ঘরে ফেরেনি। উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর রাতেই সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা। সন্তানকে অক্ষত ফিরে পেতে আকুল আবেদন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিখোঁজ সংবাদ পোস্ট করেন মা ড. নাহিদা বেগম। কিন্তু সব আশা ধূলিসাৎ করে শনিবার দুপুরে কোটবাড়ির দক্ষিণ মোড় সংলগ্ন নির্জন এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় তার রক্তাক্ত মরদেহ।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত অপ্রতিমের হাতের মুঠোফোনটির সর্বশেষ নেটওয়ার্ক লোকেশন গন্ধমতী এলাকাতেই সচল ছিল; এরপর থেকেই সেটি পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, মূলত দামি আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই নির্জন স্থানে নিয়ে নির্মমভাবে মাথায় আঘাত করে কিশোর অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে।

সন্তান হারানোর শোকে স্তব্ধ বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘ফোনের দাম আছে, কিন্তু একটা মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই? সে অন্যায় করলে তাকে শাসন করত, মেরে ফেলবে কেন?’ এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের দ্রুত শনাক্ত ও সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল ও নিহতের বাসা পরিদর্শন করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান (পিপিএম) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমানসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ সূত্র উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান বিরতিহীনভাবে অব্যাহত থাকবে।

এদিকে শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের বাসায় গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর বিচারের আশ্বাস দেন। অন্যদিকে শিক্ষকের নিষ্পাপ সন্তান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক ফাঁসির দাবিতে শনিবার বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিল?
কুমিল্লায় আইফোনের লোভে কুবি শিক্ষকের সন্তানকে হত্যা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬