জনগণের অপমানের প্রতিশোধ নিতেই রাজপথে নেমেছি
সরকার গণভোটের স্পষ্ট রায় বাস্তবায়ন না করে দেশের সাধারণ মানুষকে চরমভাবে অপমান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেন, জনগণের সেই অপমানের গণতান্ত্রিক প্রতিশোধ নেওয়ার লক্ষ্যেই আজ তারা রাজপথে নেমে এসেছেন।
আজ শনিবার গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে ১১ দলীয় জোটের পূর্বঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পথসভায় সমবেত জনতার উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলে নিজেদের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছিল। অথচ বর্তমান সরকার সেই গণরায়কে পুরোপুরি অগ্রাহ্য ও অবমূল্যায়ন করে সমগ্র জাতিকে অপমানিত করেছে। জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই বঞ্চনা ও অবমাননার জবাব দিতেই রাজপথের আন্দোলন বেছে নেওয়া হয়েছে।
সরকার জনগণের রায় বাস্তবায়নে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এই রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়াচ্ছে যে, তাদের পানি ঠিকই খেতে হবে, তবে তা ঘোলা করেই খাবে।
সরকারকে কঠোর বার্তা দিয়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, বর্তমান সংকট উত্তরণে তারা আট দফা দাবি নিয়ে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়েছেন। তবে গণদাবি আদায়ে কালক্ষেপণ করা হলে এই আট দফা যেকোনো মুহূর্তে এক দফায় রূপ নিতে পারে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরবে না।
লংমার্চের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এই পদযাত্রা কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়, বরং প্রতিটি পরিবারের ঘরে ঘরে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, কলকারখানার উৎপাদন চাকা সচল রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া এবং পানির তীব্র সংকটে ভোগা মানুষের দুর্ভোগ অবসানের জন্য। একইসঙ্গে হাট-বাজার, রাস্তাঘাট ও গণপরিবহন স্ট্যান্ডগুলোতে চলমান বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধ, সর্বগ্রাসী দুর্নীতির মূলোৎপাটন, বিদেশি আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ এবং দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ঐতিহাসিক তাগিদ থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা।