বুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › রাজশাহী › রাজশাহীতে নাগরিক সংলাপ: বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে অপচয় রোধে ক্যাবের আহ্বান

রাজশাহীতে নাগরিক সংলাপ: বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে অপচয় রোধে ক্যাবের আহ্বান

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীতে নাগরিক সংলাপ: বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে অপচয় রোধে ক্যাবের আহ্বান
রাজশাহীর হোটেল ওয়ারিশানের সভাকক্ষে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘ক্যাব প্রস্তাবিত ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নীতি ও জ্বালানি সুবিচার’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তব্য দেন অতিথিবৃন্দ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছ চুক্তি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও নীতিগত অদক্ষতার নির্মম বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার কাঁধেই চাপছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক প্রতিনিধিরা। প্রচলিত ‘কস্ট প্লাস মুনাফা’ কাঠামোর কারণে উৎপাদন ব্যয় কমানোর কোনো উদ্যোগ না থাকায় কৃত্রিমভাবে মুনাফা বাড়ানোর অপচেষ্টা চলছে। বিগত দেড় দশকে অসম চুক্তি, জবাবদিহিহীন দায়মুক্তির আইনি সুবিধা এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ফাঁকফোকরে এ খাতে অনিয়ম ও অদক্ষতা চরম আকার ধারণ করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সব ধরনের অপচয় রোধ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় বিদ্যুৎ-জ্বালানি নীতির মূল কেন্দ্রে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার রাজশাহীর হোটেল ওয়ারিশানের সভাকক্ষে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্যাব প্রস্তাবিত ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নীতি ও জ্বালানি সুবিচার’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন।

সংলাপে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট কেবল সরবরাহ ঘাটতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা মারাত্মক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। অবকাঠামো তৈরি থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে থাকছে, অথচ চুক্তির ফাঁদে পড়ে কেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ বা অলস ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এই অন্যায্য আর্থিক দেনার পুরো চাপ বহন করতে হচ্ছে রাষ্ট্র ও নিরীহ জনগণকে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ব্যয় সংকোচন ও সাধারণ গ্রাহকের ওপর বারবার মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে ক্যাবের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ১২ দফা রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। এসব প্রস্তাবের মধ্যে সরকারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবাকে সম্পূর্ণ মুনাফামুক্ত করে বার্ষিক প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়, মাত্রাতিরিক্ত এলএনজি আমদানির আত্মঘাতী পথ পরিহার করে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে জোর দেওয়া এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া অবিলম্বে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি করে জাতীয় চাহিদা ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনা এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে গুটিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ক্যাবের গবেষণা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে প্রতি বছর প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার জাতীয় সাশ্রয় নিশ্চিত করা যাবে।

ক্যাব রাজশাহী জেলার সভাপতি কাজি গিয়াসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের সমন্বয়কারী (গবেষণা) প্রকৌশলী এমএএম গোলাম কিবরিয়া। অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা প্রকৌশলী একেএম খাদেমুল ইসলাম ফিকসন এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক মারুফা কলি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর তথ্যবহুল পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ক্যাব যুব সংসদ রাবির সহ-সভাপতি এস আর বি ত্বমিন এবং ঢাবির অর্থনীতি বিভাগ ও ক্যাব সংসদের প্রতিনিধি অরিত্র রোদ্দুর ধর।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে কার্যকর জ্বালানি সংস্কারের পক্ষে মতামত তুলে ধরেন ক্যাব রাজশাহীর উপদেষ্টা লিয়াকত আলী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদ, ক্যাব রাজশাহীর সহসভাপতি মিজানুর রহমান, রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজ হাসনাইন হিকল, ক্যাব নাটোরের সভাপতি সামিমা লাইজু ও সাধারণ সম্পাদক রইস উদ্দিন সরকার, ক্যাব সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি শওকত আলী, ক্যাব নওগাঁ জেলা সভাপতি আজিজুল ইসলাম আজাদ এবং পবা উপজেলা সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম।

আলোচকরা একমত পোষণ করেন যে, জ্বালানি খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও অপরাধ শক্ত হাতে দমন করে আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে হলে অপচয় দূরীকরণ এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করে একটি সমন্বিত জ্বালানি সুবিচার কাঠামো গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

রাজশাহীতে নাগরিক সংলাপ: বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে অপচয় রোধে ক্যাবের আহ্বান
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › রাজশাহী › রাজশাহীতে নাগরিক সংলাপ: বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে অপচয় রোধে ক্যাবের আহ্বান

রাজশাহীতে নাগরিক সংলাপ: বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে অপচয় রোধে ক্যাবের আহ্বান

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীতে নাগরিক সংলাপ: বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে অপচয় রোধে ক্যাবের আহ্বান
রাজশাহীর হোটেল ওয়ারিশানের সভাকক্ষে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘ক্যাব প্রস্তাবিত ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নীতি ও জ্বালানি সুবিচার’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তব্য দেন অতিথিবৃন্দ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছ চুক্তি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও নীতিগত অদক্ষতার নির্মম বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার কাঁধেই চাপছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক প্রতিনিধিরা। প্রচলিত ‘কস্ট প্লাস মুনাফা’ কাঠামোর কারণে উৎপাদন ব্যয় কমানোর কোনো উদ্যোগ না থাকায় কৃত্রিমভাবে মুনাফা বাড়ানোর অপচেষ্টা চলছে। বিগত দেড় দশকে অসম চুক্তি, জবাবদিহিহীন দায়মুক্তির আইনি সুবিধা এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ফাঁকফোকরে এ খাতে অনিয়ম ও অদক্ষতা চরম আকার ধারণ করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সব ধরনের অপচয় রোধ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় বিদ্যুৎ-জ্বালানি নীতির মূল কেন্দ্রে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার রাজশাহীর হোটেল ওয়ারিশানের সভাকক্ষে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্যাব প্রস্তাবিত ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নীতি ও জ্বালানি সুবিচার’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন।

সংলাপে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট কেবল সরবরাহ ঘাটতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা মারাত্মক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। অবকাঠামো তৈরি থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে থাকছে, অথচ চুক্তির ফাঁদে পড়ে কেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ বা অলস ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এই অন্যায্য আর্থিক দেনার পুরো চাপ বহন করতে হচ্ছে রাষ্ট্র ও নিরীহ জনগণকে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ব্যয় সংকোচন ও সাধারণ গ্রাহকের ওপর বারবার মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে ক্যাবের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ১২ দফা রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। এসব প্রস্তাবের মধ্যে সরকারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবাকে সম্পূর্ণ মুনাফামুক্ত করে বার্ষিক প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়, মাত্রাতিরিক্ত এলএনজি আমদানির আত্মঘাতী পথ পরিহার করে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে জোর দেওয়া এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া অবিলম্বে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি করে জাতীয় চাহিদা ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনা এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে গুটিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ক্যাবের গবেষণা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে প্রতি বছর প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার জাতীয় সাশ্রয় নিশ্চিত করা যাবে।

ক্যাব রাজশাহী জেলার সভাপতি কাজি গিয়াসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের সমন্বয়কারী (গবেষণা) প্রকৌশলী এমএএম গোলাম কিবরিয়া। অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা প্রকৌশলী একেএম খাদেমুল ইসলাম ফিকসন এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক মারুফা কলি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর তথ্যবহুল পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ক্যাব যুব সংসদ রাবির সহ-সভাপতি এস আর বি ত্বমিন এবং ঢাবির অর্থনীতি বিভাগ ও ক্যাব সংসদের প্রতিনিধি অরিত্র রোদ্দুর ধর।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে কার্যকর জ্বালানি সংস্কারের পক্ষে মতামত তুলে ধরেন ক্যাব রাজশাহীর উপদেষ্টা লিয়াকত আলী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদ, ক্যাব রাজশাহীর সহসভাপতি মিজানুর রহমান, রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজ হাসনাইন হিকল, ক্যাব নাটোরের সভাপতি সামিমা লাইজু ও সাধারণ সম্পাদক রইস উদ্দিন সরকার, ক্যাব সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি শওকত আলী, ক্যাব নওগাঁ জেলা সভাপতি আজিজুল ইসলাম আজাদ এবং পবা উপজেলা সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম।

আলোচকরা একমত পোষণ করেন যে, জ্বালানি খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও অপরাধ শক্ত হাতে দমন করে আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে হলে অপচয় দূরীকরণ এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করে একটি সমন্বিত জ্বালানি সুবিচার কাঠামো গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

রাজশাহীতে নাগরিক সংলাপ: বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে অপচয় রোধে ক্যাবের আহ্বান
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬