বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমস্পেশালআড়ালে তৃণমূলের আওয়ামী নেতাকর্মী পুনর্বাসনে ত্রিমুখী তৎপরতা
মুখে বিচারের দাবি

আড়ালে তৃণমূলের আওয়ামী নেতাকর্মী পুনর্বাসনে ত্রিমুখী তৎপরতা

favicon
উপচার ডেস্ক :-
আড়ালে তৃণমূলের আওয়ামী নেতাকর্মী পুনর্বাসনে ত্রিমুখী তৎপরতা

জনসম্মুখে ফ্যাসিবাদের বিচার, দল নিষিদ্ধের দাবি ও পলাতক নেতৃত্বের ফাঁসি কার্যকরের জোরালো বক্তব্য থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃশ্যপট একেবারেই ভিন্ন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন-ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের প্রভাব অক্ষুণ্ন রাখা এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ সুরক্ষায় তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিজ বলয়ে টানতে অঘোষিত প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েছে মূল রাজনৈতিক দলগুলো। প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী কিংবা অভ্যুত্থান-পরবর্তী ধারার এনসিপি আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচক হলেও মাঠপর্যায়ে পুনর্বাসন, অর্থ লেনদেন ও আশ্রয়-প্রশ্রয়ের নানা নজির এখন ওপেন সিক্রেট।

সম্প্রতি চট্টগ্রামমুখী একটি লংমার্চ কর্মসূচিতে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়িকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গাড়িটির মালিক আওয়ামী লীগের এক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। একই ধারায় কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য আমির হামজার একটি বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় আসে, যেখানে তিনি তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য ও পূর্বসূরিদের আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘ সংশ্লিষ্টতার কথা খোলাখুলি তুলে ধরেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো আসলে তৃণমূল রাজনীতির একটি বড় বাস্তবতার প্রতিফলন; যেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং অর্থ-সম্পদ রক্ষার বিনিময়ে দলবদলের খেলায় মেতেছেন কোণঠাসা হয়ে পড়া মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

রাজনৈতিক দলগুলোর এমন দ্বিমুখী ভূমিকার সমালোচনা করে গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফও সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী ঘরানার বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অর্থের বিনিময়ে পদায়ন কিংবা ব্যবহার করার প্রবণতা অভ্যুত্থান-পরবর্তী অনেক নেতার জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার দাবিদার অনেকেই এখন স্থানীয় প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সম্পদ এবং স্বার্থরক্ষার বিনিময়ে নানা আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন বলে নানা মহলে আলোচনা রয়েছে।

একইভাবে মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতের কৌশলগত পার্থক্যও স্পষ্ট। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের দ্বন্দ্ব কিংবা মামলা মোকদ্দমার জটিলতা দৃশ্যমান হলেও, জামায়াতে ইসলামী সেখানে ভিন্ন সমীকরণ তৈরি করেছে। এক সময়ের কট্টর বৈরী অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও ভোটের অংক মেলাতে দলটি উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সঙ্গে সমঝোতায় যাচ্ছে। কোনো কোনো সংসদীয় এলাকায় জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাদের তরফ থেকে সরাসরি মামলা-মোকদ্দমার সুরক্ষা ও আইনি সহযোগিতার আশ্বাসে দলে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানানোর ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে হাটবাজার, পরিবহন টার্মিনাল ও অন্যান্য বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে বিএনপির প্রভাব দৃশ্যমান হওয়ায় তৃণমূলের অনেক ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দলটিতে ভেড়ার চেষ্টা করছেন।

এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার দায় একে অপরের ঘাড়ে চাপিয়ে দলগুলোর মধ্যেও চলছে তীব্র কাদা-ছোড়াছুড়ি। জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নমনীয় মনোভাবের কারণেই পলাতক দলের সুবিধাভোগীরা রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক দায়িত্বশীলরা দাবি করছেন, ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা পেতেই জামায়াত ও নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো আওয়ামী লীগের অনুসারীদের ছায়া দিচ্ছে। ফলে নীতিগত অবস্থানের বাইরে গিয়ে মাঠের ক্ষমতা, নির্বাচনী সমীকরণ ও আর্থিক স্বার্থই এখন দৃশ্যত দলগুলোর পুনর্বাসন রাজনীতির প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।

আড়ালে তৃণমূলের আওয়ামী নেতাকর্মী পুনর্বাসনে ত্রিমুখী তৎপরতা
মুখে বিচারের দাবি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমস্পেশালআড়ালে তৃণমূলের আওয়ামী নেতাকর্মী পুনর্বাসনে ত্রিমুখী তৎপরতা
মুখে বিচারের দাবি

আড়ালে তৃণমূলের আওয়ামী নেতাকর্মী পুনর্বাসনে ত্রিমুখী তৎপরতা

favicon
উপচার ডেস্ক :-
আড়ালে তৃণমূলের আওয়ামী নেতাকর্মী পুনর্বাসনে ত্রিমুখী তৎপরতা

জনসম্মুখে ফ্যাসিবাদের বিচার, দল নিষিদ্ধের দাবি ও পলাতক নেতৃত্বের ফাঁসি কার্যকরের জোরালো বক্তব্য থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃশ্যপট একেবারেই ভিন্ন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন-ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের প্রভাব অক্ষুণ্ন রাখা এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ সুরক্ষায় তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিজ বলয়ে টানতে অঘোষিত প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েছে মূল রাজনৈতিক দলগুলো। প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী কিংবা অভ্যুত্থান-পরবর্তী ধারার এনসিপি আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচক হলেও মাঠপর্যায়ে পুনর্বাসন, অর্থ লেনদেন ও আশ্রয়-প্রশ্রয়ের নানা নজির এখন ওপেন সিক্রেট।

সম্প্রতি চট্টগ্রামমুখী একটি লংমার্চ কর্মসূচিতে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়িকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গাড়িটির মালিক আওয়ামী লীগের এক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। একই ধারায় কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য আমির হামজার একটি বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় আসে, যেখানে তিনি তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য ও পূর্বসূরিদের আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘ সংশ্লিষ্টতার কথা খোলাখুলি তুলে ধরেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো আসলে তৃণমূল রাজনীতির একটি বড় বাস্তবতার প্রতিফলন; যেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং অর্থ-সম্পদ রক্ষার বিনিময়ে দলবদলের খেলায় মেতেছেন কোণঠাসা হয়ে পড়া মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

রাজনৈতিক দলগুলোর এমন দ্বিমুখী ভূমিকার সমালোচনা করে গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফও সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী ঘরানার বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অর্থের বিনিময়ে পদায়ন কিংবা ব্যবহার করার প্রবণতা অভ্যুত্থান-পরবর্তী অনেক নেতার জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার দাবিদার অনেকেই এখন স্থানীয় প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সম্পদ এবং স্বার্থরক্ষার বিনিময়ে নানা আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন বলে নানা মহলে আলোচনা রয়েছে।

একইভাবে মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতের কৌশলগত পার্থক্যও স্পষ্ট। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের দ্বন্দ্ব কিংবা মামলা মোকদ্দমার জটিলতা দৃশ্যমান হলেও, জামায়াতে ইসলামী সেখানে ভিন্ন সমীকরণ তৈরি করেছে। এক সময়ের কট্টর বৈরী অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও ভোটের অংক মেলাতে দলটি উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সঙ্গে সমঝোতায় যাচ্ছে। কোনো কোনো সংসদীয় এলাকায় জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাদের তরফ থেকে সরাসরি মামলা-মোকদ্দমার সুরক্ষা ও আইনি সহযোগিতার আশ্বাসে দলে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানানোর ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে হাটবাজার, পরিবহন টার্মিনাল ও অন্যান্য বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে বিএনপির প্রভাব দৃশ্যমান হওয়ায় তৃণমূলের অনেক ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দলটিতে ভেড়ার চেষ্টা করছেন।

এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার দায় একে অপরের ঘাড়ে চাপিয়ে দলগুলোর মধ্যেও চলছে তীব্র কাদা-ছোড়াছুড়ি। জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নমনীয় মনোভাবের কারণেই পলাতক দলের সুবিধাভোগীরা রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক দায়িত্বশীলরা দাবি করছেন, ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা পেতেই জামায়াত ও নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো আওয়ামী লীগের অনুসারীদের ছায়া দিচ্ছে। ফলে নীতিগত অবস্থানের বাইরে গিয়ে মাঠের ক্ষমতা, নির্বাচনী সমীকরণ ও আর্থিক স্বার্থই এখন দৃশ্যত দলগুলোর পুনর্বাসন রাজনীতির প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।

আড়ালে তৃণমূলের আওয়ামী নেতাকর্মী পুনর্বাসনে ত্রিমুখী তৎপরতা
মুখে বিচারের দাবি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬