রাজশাহীতে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার মজুত, সংকট নেই: জেলা প্রশাসক
রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে আমন ধান রোপণের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে জমিতে বেসাল ডোজ হিসেবে ব্যবহৃত নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা কমে এলেও গাছের উপরি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের চাহিদা বাড়ছে। তবে কৃষকদের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে জেলায় পর্যাপ্ত ইউরিয়া সারের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও অনুমোদিত গুদামে ২ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন বা ৪৯ হাজার ৩৮০ বস্তা ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার অনুমোদিত ডিলার মেসার্স মোসলেম মোল্লা এবং পবা উপজেলার কাটাখালীর সংসাদিপুরে অবস্থিত মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজের গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। পরিদর্শনকালে তিনি সারের সার্বিক মজুত, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং বিক্রয় ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এম এ মান্নান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, আগস্ট মাসে জেলাজুড়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং ডিলারদের মাধ্যমে তা সরাসরি কৃষকদের কাছে বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের সম্ভাব্য অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাহিদাপত্রও পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বর মাসের নির্ধারিত সার ডিলাররা বৃহস্পতিবার থেকেই উত্তোলন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে তাঁদের অনুকূলে চাহিদামতো বরাদ্দ বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ডিলার পয়েন্ট থেকে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডিলারদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতে দৈনিক উত্তোলন, মজুত ও বিক্রির হিসাব সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি অফিসে নিয়মিত দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকট রোধে জেলা প্রশাসনের কড়া নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ভিজিল্যান্স টিমের ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৯৩ বস্তা অবৈধ সার জব্দ করা হয়েছে এবং অনিয়মে জড়িতদের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যদি সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করেন, অবৈধ মজুত গড়ে তোলেন কিংবা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।