রাকসু জিএসের পৌনে চার লাখ টাকার ব্যয় নিয়ে ছাত্রশিবিরের প্রশ্ন, ৫ দফা দাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে পৌনে চার লাখ টাকা প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে তীব্র আপত্তি ও প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, আপ্যায়ন ও যাতায়াত খাতের নামে প্রদর্শিত এই ব্যয় বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই অসঙ্গতিপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে তিনি নিজের আর্থিক দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।
সংবাদ সম্মেলনে শিবির সভাপতি উল্লেখ করেন, রাকসুর জিএস সম্প্রতি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দাপ্তরিক খরচ হিসেবে দেখিয়েছেন, যার সিংহভাগই যাতায়াত ও আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অর্থ এভাবে যাতায়াত ও আপ্যায়নে ব্যয় হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, শিবির-সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী তাদের আওতাধীন ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মোট ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩৬ হাজার টাকার মতো। অন্যান্য দপ্তরগুলোর ব্যয় যোগ করলেও তা কোনোভাবেই এত বিশাল অঙ্কে পৌঁছাতে পারে না। ফলে জিএসের প্রদর্শিত এই ব্যয়ের হিসাব বাস্তবসম্মত নয়।
সালাহউদ্দিন আম্মারের ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা বা দায়ভার নেই উল্লেখ করে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আম্মার তাদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি নন। তাই তাঁর কোনো ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বা আর্থিক অস্বচ্ছতার দায়ভার ছাত্রশিবির বহন করবে না। তবে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত সকল প্রতিনিধির হিসাব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের রয়েছে।
ছাত্রশিবিরের এমন অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, দায় এড়ানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না, কারণ প্রতিটি খরচের স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট ভাউচার ও উপযুক্ত প্রমাণাদি তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং তিনি নিয়ম মেনেই হিসাব উপস্থাপন করেছেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলন থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করে শাখা ছাত্রশিবির। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা প্রদান, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন মেডিকেল সেন্টার গড়ে তোলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা এবং অবিলম্বে পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা।