১২টি থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন ইউনিট’ করার নির্দেশ আরএমপি কমিশনারের
রাজশাহী মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং পুলিশি সেবাকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে মহানগরীর আওতাধীন ১২টি থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন ইউনিট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আরএমপির জুলাই/২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এই নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আরএমপি কমিশনার।
সভায় মহানগরীর সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গত জুলাই মাসের অপরাধচিত্র এবং অপরাধ দমনে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় যোগ দিয়ে আরএমপি কমিশনার স্পষ্ট ভাষায় জানান, পুলিশি সেবা গ্রহণ করতে এসে যেন কোনো সাধারণ নাগরিক হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে মাননীয় আইজিপি মহোদয়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে থানাগুলোতে জিডি ও ইউডি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহাসড়ক ও মহানগরীর অভ্যন্তরে যান চলাচল শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আরএমপি। এর পাশাপাশি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলি, ট্রাক্টর, নছিমন ও করিমনের মতো অনুমোদনহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশি সেবার স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে কমিশনার উল্লেখ করেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা যেন সাধারণ মানুষ কোনো রকম বিলম্ব ছাড়াই স্বচ্ছতার সঙ্গে পেতে পারেন, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য যেন অনুমতি ব্যতীত কর্মস্থলে অনুপস্থিত না থাকেন, তা কঠোরভাবে তদারকি করার জন্যও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
নগরীর নিরাপত্তায় বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার তাগিদ দিয়ে কমিশনার বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় আইনগত সহায়তা পৌঁছে দিতে পুলিশের কার্যকর সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। এছাড়া মহানগরীর আবাসিক হোটেলগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনোভাবেই যেন কোনো আবাসিক হোটেলে জুয়ার আসর বা অসামাজিক কার্যকলাপ চলতে না পারে।
সভায় মামলা রুজু থেকে শুরু করে তদন্ত সম্পন্ন, নির্ভুল পুলিশ রিপোর্ট দাখিল, মাদক উদ্ধার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। আদালতের প্রতিটি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দায়বদ্ধ থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান পুলিশ কমিশনার।
দীর্ঘ এই পর্যালোচনা সভায় আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, সকল উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং মহানগরীর ১২টি থানার অফিসার ইনচার্জগণ (ওসি) উপস্থিত ছিলেন।