হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব সেবা দিতে আরএমপি কমিশনারের কড়া নির্দেশ
রাজশাহী মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও অপরাধ নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মানসম্মত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরএমপির সকল থানার সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই)-দের নিয়ে একটি বিশেষ মাসিক পারফরমেন্স পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
সভায় পুলিশ কমিশনার সাধারণ জনগণকে সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত, দ্রুততম সময়ে ও কাঙ্ক্ষিত পুলিশি সেবা প্রদানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, পুলিশের প্রতিটি কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা এবং জনবান্ধব আচরণ অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে জমিজমাসংক্রান্ত পারিবারিক বা সামাজিক বিরোধে পুলিশের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আইনি সীমার মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন। এছাড়া জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই ও দ্রুত তদন্তপূর্বক নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, রাস্তাঘাট ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে মালামাল রেখে যারা যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন, সেই সমস্ত হকার ও দোকানদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি থানা এলাকায় নিয়মিত ও দৃশ্যমান পুলিশি টহল জোরদার করার মাধ্যমে চুরি, ছিনতাইসহ যেকোনো ধরনের অপরাধপ্রবণতা কঠোরহাতে দমন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাত দশটার পর আবাসিক এলাকায় যেকোনো ধরনের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যা কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা রুখতে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান আরও বেগবান করতে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার।
বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত ও আন্তরিক যোগাযোগ পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করে, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তাই সেবা নিতে আসা মানুষের প্রতি সবসময় সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করা এবং দ্রুত সাড়া দিয়ে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
উক্ত পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আবুল কালাম সাহিদ এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান, পিপিএমসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।