চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফুলকুঁড়ি ইসলামিক একাডেমির কৃতি সংবর্ধনা সম্পন্ন
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফুলকুঁড়ি ইসলামিক একাডেমির আয়োজনে জিপিএ-৫ (এ-প্লাস) প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা স্মারক প্রদান করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের কৃতি প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুস সামাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথিতযশা সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক ফয়সাল আজম অপু, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম এবং অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম খাইরুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর কৃতি শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক ফয়সাল আজম অপু বলেন, "আজকের শিশু ও কিশোরেরাই আগামী দিনের দেশ, সমাজ ও জাতির কর্ণধার। তাই তাদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জনের দিকেই ধাবিত করলে চলবে না, বরং তাদের সৎ, আদর্শবান, মানবিক গুণসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।" তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, সত্যবাদিতা, বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ এবং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা শিশুকাল থেকেই গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বড় মানুষ হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার আহ্বান জানান। এছাড়া ফুলকুঁড়ি ইসলামিক একাডেমী যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে ইসলামী মূল্যবোধ ও শিষ্টাচার চর্চায় ভূমিকা রেখে চলেছে, তারও উচ্চ প্রশংসা করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আব্দুস সামাদ তাঁর শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে কৃতি শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আজকের এই সাফল্য ভবিষ্যতের বড় অর্জনের একটি ধাপ মাত্র। নিয়মিত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে দেশ ও মানবকল্যাণে এই মেধাবীদের কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধা ও প্রতিভার সঠিক বিকাশে ফুলকুঁড়ি ইসলামিক একাডেমী সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক, সৃজনশীল ও উৎসাহব্যঞ্জক আয়োজন অব্যাহত থাকবে। তিনি কৃতি শিক্ষার্থী, তাদের নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবক এবং পাঠদানে যুক্ত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের এই কঠোর পরিশ্রম ও ফলাফলকে মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ জীবনে আরও বড় লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহিত করতেই মূলত এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।