বৃহস্পতিবার , ২০ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহী২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনিক রদবদল
ইউএনও কার্যালয়ে হামলা ও মামলা

২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনিক রদবদল

favicon
নাটোর প্রতিনিধি :
২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনিক রদবদল

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়েরের ঠিক পরের দিনই নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এই প্রশাসনিক রদবদলের আদেশ দেওয়া হয়। হঠাৎ এই বদলি ও প্রত্যাহারের ঘটনায় জেলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় দুটি পৃথক এজাহার দায়ের করেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

দাখিলকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, লালপুরে দায়ের করা মামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাগাতিপাড়া থানায় দায়ের করা অপর মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

লালপুরের এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবীর সুইট ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হানসহ অন্যান্যরা।

অন্যদিকে, বাগাতিপাড়ার এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন—উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন মুন্না।

এই বিষয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, "সরকারি সম্পদ ও অফিসে হামলার ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটির শীর্ষ নেতাদের ঢালাওভাবে মামলা জড়ানো হয়েছে।" তিনি আরও দাবি করেন, প্রকৃত দোষীদের বিচার হওয়া উচিত, তবে একটি মহল রাজনৈতিকভাবে দলকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য চক্রান্ত চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। ওই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সংবাদকর্মীও আহত হন। ঘটনার পাঁচ দিন পর ১৭ থানায় মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে মোট ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ২০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার ও ইউএনও বদলির এই ঘটনা ঘটলেও, সরকারের প্রকাশিত আদেশে এই রদবদলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনিক রদবদল
ইউএনও কার্যালয়ে হামলা ও মামলা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ২০ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহী২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনিক রদবদল
ইউএনও কার্যালয়ে হামলা ও মামলা

২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনিক রদবদল

favicon
নাটোর প্রতিনিধি :
২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনিক রদবদল

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়েরের ঠিক পরের দিনই নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এই প্রশাসনিক রদবদলের আদেশ দেওয়া হয়। হঠাৎ এই বদলি ও প্রত্যাহারের ঘটনায় জেলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় দুটি পৃথক এজাহার দায়ের করেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

দাখিলকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, লালপুরে দায়ের করা মামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাগাতিপাড়া থানায় দায়ের করা অপর মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

লালপুরের এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবীর সুইট ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হানসহ অন্যান্যরা।

অন্যদিকে, বাগাতিপাড়ার এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন—উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন মুন্না।

এই বিষয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, "সরকারি সম্পদ ও অফিসে হামলার ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটির শীর্ষ নেতাদের ঢালাওভাবে মামলা জড়ানো হয়েছে।" তিনি আরও দাবি করেন, প্রকৃত দোষীদের বিচার হওয়া উচিত, তবে একটি মহল রাজনৈতিকভাবে দলকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য চক্রান্ত চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। ওই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সংবাদকর্মীও আহত হন। ঘটনার পাঁচ দিন পর ১৭ থানায় মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে মোট ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ২০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার ও ইউএনও বদলির এই ঘটনা ঘটলেও, সরকারের প্রকাশিত আদেশে এই রদবদলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনিক রদবদল
ইউএনও কার্যালয়ে হামলা ও মামলা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ আগস্ট ২০২৬