সরাসরি সমস্যার কথা শুনেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন রাজশাহীর ডিসি
‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে পরিচালিত গণশুনানি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে সরাসরি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
সাপ্তাহিক এই আয়োজনে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে হাজির হন। জমিজমা সংক্রান্ত জটিল বিরোধ, দূরারোগ্য ব্যাধিতে চিকিৎসা ব্যয় ও আর্থিক সহায়তা, শিক্ষাভাতা প্রদান এবং বসতঘর মেরামতের মতো নানান প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মানুষ জেলা প্রশাসকের মুখোমুখি হন। অত্যন্ত আন্তরিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিটি আবেদন শুনে বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, ডিসির মতো একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাওয়া এবং তাৎক্ষণিক প্রতিকার লাভ করার অভিজ্ঞতা তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। স্বামীর চিকিৎসা সহায়তার জন্য আসা শামীমা সুলতানা জানান, তিনি কল্পনাই করতে পারেননি এত সহজে ডিসি মহোদয়ের সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে। তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা পেয়ে তিনি দারুণভাবে উপকৃত হয়েছেন। একইভাবে, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ বসতঘর দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার সমস্যায় ভোগা মো. শাহজাহান আলী গণশুনানিতে এসে ঘর মেরামতের তাৎক্ষণিক আর্থিক সহযোগিতা পান। বই কেনার সহায়তার আবেদনকারী এক শিক্ষার্থীও জেলা প্রশাসকের আন্তরিক সহযোগিতায় অভিভূত হয়ে ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাসের কথা জানান।
এ ধরনের উদ্যোগের ফলে সাধারণ জনগণের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের আস্থার দূরত্ব ঘুচে যাচ্ছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সুনিশ্চিত হচ্ছে। গণশুনানি শেষে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মূল ব্রত হলো জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হ্রাস করে জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসন সদা তৎপর রয়েছে।
উক্ত গণশুনানিতে রাজশাহী জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুল হাই এবং সমাজসেবা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের এমন জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।