যৌন হয়রানি ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ
যৌন হয়রানি ও অ্যাকাডেমিক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই কমিটিগুলোর দাখিল করা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রতিবেদন সিন্ডিকেট সভায় বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয় এবং তার ভিত্তিতেই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ‘প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে নারী ও যৌন হয়রানি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করে এবং অভ্যন্তরীণ যৌন নিপীড়ন সেলের মাধ্যমে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
এর আগে, গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার জেরে গত বছরের ১৩ আগস্ট ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা সরাসরি বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রাথমিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তদন্তের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে। এদিকে বিচার ও শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হলো।