শিক্ষাই শিশু-যুবকদের জীবন বদলের অন্যতম হাতিয়ার: ডিসি শহিদুল ইসলাম
শিক্ষাকে শিশু ও যুবাদের জীবন বদলের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আজকের শিশু ও যুবকরাই আগামী দিনের দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। তাই উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তাদের যোগ্য, শিক্ষিত, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় নগরের মহিষবাথান এলাকার কারিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত শিশু ও যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করে কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশু ও যুবাদের অধিকার, নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পায়।
শিশু ও যুবকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আজকের শিশু ও যুবারাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে তাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেই লক্ষ্যেই সরকার শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছে। শিক্ষা মানুষের জীবন পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
তিনি আরও বলেন, জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তোলার উপযুক্ত সময় শৈশব ও কৈশোর। এ সময় থেকেই দৃঢ় মনোবল নিয়ে লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো শিশুর লেখাপড়া বন্ধ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টাকার জন্য লেখাপড়া থেমে থাকবে না। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’
ডিসি বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই হবে না; শিশু ও যুবাদের মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
সমাবেশে শিশু ও যুবাদের অধিকার, শিক্ষা, নিরাপত্তা, নেতৃত্বের বিকাশ, মাদক প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। ‘শিশু ও যুববান্ধব বাংলাদেশ গড়তে যুবদের নেতৃত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিপক্ষ দল রাজশাহী সিটি সেভেন শিশু ফোরাম বিজয়ী হয়। এতে যুক্তিতর্কে অংশ নেয় রাজশাহী সিটি সেভেন যুব ফোরাম।
সমাবেশে শিশু ও যুবাদের অধিকার, শিক্ষা, নিরাপত্তা, নেতৃত্বের বিকাশ, মাদক প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। ‘শিশু ও যুববান্ধব বাংলাদেশ গড়তে যুবদের নেতৃত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিপক্ষ দল রাজশাহী সিটি সেভেন শিশু ফোরাম বিজয়ী হয়। এতে যুক্তিতর্কে অংশ নেয় রাজশাহী সিটি সেভেন যুব ফোরাম।
'জাগো, ঐক্যবদ্ধ হও, আলোকিত করো: শিশু ও যুববান্ধব বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এডিপি) এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সভাপতির বক্তব্যে এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম বলেন, শিশু ও যুবাদের কণ্ঠস্বর, নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য। শিশুদের অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিশু-যুববান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নেতৃত্ব বিকাশের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
সমাবেশে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের ১০০ জন যুবা অংশ নেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল কাদির, বোয়ালিয়া ইউনিটের মেট্রো থানা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রোকুনুজ্জামান এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের শিক্ষা কর্মকর্তা আলমাহমুদ রণি।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহীর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নীলু বেগম, রাজশাহী শহর এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদার, প্রোগ্রাম অফিসার ফিলিপ আরিন্দা, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোসা. শারমিন সুরভী আক্তার ও অর্জুন রায়, স্পনসশিপ ও চাইল্ড প্রোডাকশন অফিসার রাহুল মাইকেল রোজারিওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।