অনলাইন শপের আড়ালে থাকা সাজাপ্রাপ্ত হাসিবুল গ্রেপ্তার
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আলোচিত সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হাসিবুল ইসলামকে দীর্ঘ আট বছর পর অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বলে এলাকায় প্রচার করা হলেও মূলত তিনি রাজধানীতে থেকে অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে ঢাকার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বাগমারা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার হাসিবুল ইসলাম বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সূর্যপাড়া গ্রামের আনোয়ারুলের ছেলে। তাঁর বয়স প্রায় ৪০ বছর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসিবুলের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে তিনি আদালতের রায়ে পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় তাঁর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। আদালত থেকে সাজার পরোয়ানা বাগমারা থানায় পৌঁছানোর পর থেকেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তবে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গেলে পরিবার ও স্বজনদের পক্ষ থেকে দাবি করা হতো যে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। এমনকি পরিবারের দাবি অনুযায়ী তিনি বিদেশ থেকে নিয়মিত বাড়িতে টাকাও পাঠাতেন, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করেছিল।
বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দীন জানান, সাজার পরোয়ানা হাতে পাওয়ার পর তিনি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্যসূত্রের মাধ্যমে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ‘রংধনু শপ’ নামের একটি অনলাইন কসমেটিকস বিক্রয়কারী সাইটের সন্ধান পায় পুলিশ। পরে পুলিশের একটি দল ক্রেতা সেজে ওই অনলাইন শপের পরিচালক হাসিবুলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। দীর্ঘ কৌশলগত যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর সুনির্দিষ্ট অবস্থান ঢাকায় নিশ্চিত করা হয়। এরপর শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকা হাসিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কৌশল অবলম্বন করেই তাঁকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।