দামকুড়ার আলোচিত অপহরণ মামলা
রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানার একটি আলোচিত অপহরণ মামলার ১৫ বছর বয়সী ভিকটিম আল আসমাউল হুসনা তাসনিমকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে মহানগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৫ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটের দিকে র্যাব-৫-এর সিপিএসসি কোম্পানির একটি বিশেষ আভিযানিক দল রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর চৌরাস্তা এলাকায় পুলিশ বক্সের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অপহরণের শিকার কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, এ ঘটনায় দামকুড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫)-এর ৭/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি (নং-০৪, তারিখ: ১১ জুলাই ২০২৬) তদন্তের অংশ হিসেবে ভিকটিমকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে র্যাব।
মামলার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভিকটিম ও অভিযুক্তরা একই এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে পূর্বপরিচয় ছিল। গত ১০ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ভিকটিম তার মায়ের সঙ্গে বাড়িতে ফেরার পথে দামকুড়া থানার দেশলাপাড়া বিলসংলগ্ন সড়ক এলাকায় পৌঁছালে মো. সাকিব (২১) ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবার দামকুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব-৫ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাকে দামকুড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৫ আরও জানিয়েছে, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্রসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে কিশোরী উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।