মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীসবুজের আহ্বানের মাঝেই শতবর্ষী গাছ নিধন;

সবুজের আহ্বানের মাঝেই শতবর্ষী গাছ নিধন;

উন্নয়ন নাকি পরিবেশ ধ্বংস-প্রশ্নে সরব সচেতন মহল
favicon
ফয়সাল আজম অপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
সবুজের আহ্বানের মাঝেই শতবর্ষী গাছ নিধন;

একদিকে বৃক্ষরোপণের আহ্বান, পরিবেশ সংরক্ষণের অঙ্গীকার আর সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। অন্যদিকে একই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে করাতের নিচে লুটিয়ে পড়ছে পুরোনো গাছ। এমন বৈপরীত্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার গাছ কাটার ঘটনা।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগের আয়োজনে শহর জুড়ে র‍্যালি ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়েই শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় আবারও গাছ কাটার কাজ চলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, একদিকে বৃক্ষরোপণের আহ্বান, অন্যদিকে পুরোনো গাছ নিধনের এই দৃশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এর আগে বিশ্ব পরিবেশ দিবসেও একই এলাকায় ম্যাক্স হাসপাতালের সামনে একটি শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি শুধু একটি গাছ ছিল না; বরং বহু বছরের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, অসংখ্য মানুষের ছায়ার আশ্রয় এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে ওই এলাকায় কয়েকটি বড় গাছসহ অর্ধশতাধিক ছোট-বড় ফুল, ফল, কাঠ, ভেষজ ও ঔষধি গাছ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে গাছ কাটার কাজ চলছে। তবে ঠিক কতটি গাছ বিক্রি হয়েছে, কেন বিক্রি করা হয়েছে, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না এবং বিকল্প হিসেবে কতটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে—এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

এই প্রতিবেদনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক, পৌরসচিব এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে সম্মত হননি। ফলে গাছ বিক্রির যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশগত বিষয়গুলো নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে একটি পরিণত গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, বিদ্যমান বড় গাছ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের মতে, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে উন্নয়নের নামে শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলার আগে সব বিকল্প বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না এবং কতটি নতুন গাছ রোপণ করে এই ক্ষতি পূরণ করা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

হাসপাতাল রোডের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ছোটবেলা থেকে তাঁরা গাছগুলো দেখে বড় হয়েছেন। গ্রীষ্মের প্রখর রোদে পথচারীদের ছায়া দেওয়া, পরিবেশকে শীতল রাখা এবং এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এসব গাছের অবদান ছিল অনন্য। এখন একের পর এক গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, যা তাঁদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, একটি পরিণত গাছের পরিবেশগত অবদান কয়েক দশকের নতুন চারার সমান নয়। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনায় পুরোনো গাছ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে বিকল্প নকশা গ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং ক্ষতিপূরণমূলক বাস্তবসম্মত বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন এখন একটাই—একদিকে বৃক্ষমেলায় সবুজের অঙ্গীকার, অন্যদিকে একই সময়ে পুরোনো গাছ নিধন; তাহলে পরিবেশ রক্ষার বার্তা বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে? উন্নয়ন ও পরিবেশ কি সত্যিই পাশাপাশি এগোচ্ছে, নাকি একটির আড়ালে অন্যটি হারিয়ে যাচ্ছে—তার উত্তর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেই প্রত্যাশা করছেন সবাই।

সবুজের আহ্বানের মাঝেই শতবর্ষী গাছ নিধন;
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৭ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীসবুজের আহ্বানের মাঝেই শতবর্ষী গাছ নিধন;

সবুজের আহ্বানের মাঝেই শতবর্ষী গাছ নিধন;

উন্নয়ন নাকি পরিবেশ ধ্বংস-প্রশ্নে সরব সচেতন মহল
favicon
ফয়সাল আজম অপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
সবুজের আহ্বানের মাঝেই শতবর্ষী গাছ নিধন;

একদিকে বৃক্ষরোপণের আহ্বান, পরিবেশ সংরক্ষণের অঙ্গীকার আর সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। অন্যদিকে একই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে করাতের নিচে লুটিয়ে পড়ছে পুরোনো গাছ। এমন বৈপরীত্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার গাছ কাটার ঘটনা।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগের আয়োজনে শহর জুড়ে র‍্যালি ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়েই শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় আবারও গাছ কাটার কাজ চলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, একদিকে বৃক্ষরোপণের আহ্বান, অন্যদিকে পুরোনো গাছ নিধনের এই দৃশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এর আগে বিশ্ব পরিবেশ দিবসেও একই এলাকায় ম্যাক্স হাসপাতালের সামনে একটি শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি শুধু একটি গাছ ছিল না; বরং বহু বছরের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, অসংখ্য মানুষের ছায়ার আশ্রয় এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে ওই এলাকায় কয়েকটি বড় গাছসহ অর্ধশতাধিক ছোট-বড় ফুল, ফল, কাঠ, ভেষজ ও ঔষধি গাছ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে গাছ কাটার কাজ চলছে। তবে ঠিক কতটি গাছ বিক্রি হয়েছে, কেন বিক্রি করা হয়েছে, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না এবং বিকল্প হিসেবে কতটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে—এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

এই প্রতিবেদনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক, পৌরসচিব এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে সম্মত হননি। ফলে গাছ বিক্রির যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশগত বিষয়গুলো নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে একটি পরিণত গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, বিদ্যমান বড় গাছ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের মতে, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে উন্নয়নের নামে শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলার আগে সব বিকল্প বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না এবং কতটি নতুন গাছ রোপণ করে এই ক্ষতি পূরণ করা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

হাসপাতাল রোডের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ছোটবেলা থেকে তাঁরা গাছগুলো দেখে বড় হয়েছেন। গ্রীষ্মের প্রখর রোদে পথচারীদের ছায়া দেওয়া, পরিবেশকে শীতল রাখা এবং এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এসব গাছের অবদান ছিল অনন্য। এখন একের পর এক গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, যা তাঁদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, একটি পরিণত গাছের পরিবেশগত অবদান কয়েক দশকের নতুন চারার সমান নয়। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনায় পুরোনো গাছ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে বিকল্প নকশা গ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং ক্ষতিপূরণমূলক বাস্তবসম্মত বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন এখন একটাই—একদিকে বৃক্ষমেলায় সবুজের অঙ্গীকার, অন্যদিকে একই সময়ে পুরোনো গাছ নিধন; তাহলে পরিবেশ রক্ষার বার্তা বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে? উন্নয়ন ও পরিবেশ কি সত্যিই পাশাপাশি এগোচ্ছে, নাকি একটির আড়ালে অন্যটি হারিয়ে যাচ্ছে—তার উত্তর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেই প্রত্যাশা করছেন সবাই।

সবুজের আহ্বানের মাঝেই শতবর্ষী গাছ নিধন;
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৭ জুলাই ২০২৬