তানোরে আমন ধান রোপণে ব্যস্তসময় পার করছেন চাষিরা
রাজশাহীর তানোর বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে বর্ষার পানি জমেছে,সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে আমন ধান রোপণের কাজ। আর সেই রোপণ কাজকে ঘিরে গ্রামীণ জনপদে বইছে এক উৎসবের আমেজ। কৃষাণ-কৃষাণীরা গানের তালে তালে দল বেঁধে নেমে পড়েছেন জমিতে। বৃষ্টির পানিতে ভেজা কাদা-মাখা মাঠ যেন তাদের শ্রম ও সুরের মিলনে পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত দৃশ্যে। কয়েকদিন থেকে বৃষ্টি হওয়ায় এখন রোপা আমন ধান রোপণের ধুম পড়েছে বরেন্দ্র ভূমি তানোরে উপজেলায়।রোপা আমন ধান রোপণে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন চাষিরা। চলছে জমি তৈরি, চারা তোলা আর ধান রোপণের কাজ। চাষিদের কোলাহলে মুখরিত মাঠের পর মাঠ। বীজতলা থেকে চারা তোলা ও মাঠ পরিষ্কারের কাজে পুরুষদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন আদিবাসী নারীরাও।রবিবার ১৯ জুলাই সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ সাইফুল্লাহ আহমেদ জানিয়েছে, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ঠিকমতো কৃষকরা রোপা আমন ধানের আবাদ করতে পারলে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে।উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২১ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটা অর্জনে মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগ ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বর্তমান সময়ের মতো অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত জমিতে রোপা আমন ধান লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান।তিনি আরও বলেন,এবার আমন চাষের পাশাপাশি ৬ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধান রোপন সম্পূর্ণ করেছেন কৃষকরা সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে,মাঠে মাঠে আগাছা পরিষ্কার,জমি প্রস্তত বীজতলা থেকে ধানের চারা তোলা ও জমিতে চারা রোপণে ব্যাস্ত শত শত কৃষক। কেউ কেউ জৈবসার জমিতে দিতে ব্যস্ত আবার অনেকে জমি তৈরি করছেন। এখন চাষিরা জমি প্রস্তত চাষাবাদ এবং ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটছে। এভাবেই ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত ফসলের মাঠে নিরলসভাবে কাজ করছেন তারা।উপজলার কামার গাঁ ইউনিয়নের পারিশো গ্রামের আমন চাষি জাহিদ আক্তার বলেন,আমি এ বছর ত্রিশ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে সাত বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করেছি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে শীঘ্রই বাকি জমিতে ধান রোপন করব।কলমা ইউনিয়নের আমন চাষি রায়হান,সেকেন্দার, জিয়াউর রহমান জানান,বর্তমানে যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তাতেই মাঠে আমন ধানের চেহারায় পরিবর্তন আসবে। যারা এখনও ধানের চারা রোপণ করেনি তাদের জন্যেও চারা রোপণের আবহাওয়া এখন অনুকূলে রয়েছে।আমন চাষি সহিদুল ইসলাম বলেন, সারের ও কিটনাশক দাম দিন দিন বেড়েই চলছে, আবার শ্রমিক খরচও অনেক বেশি ১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে প্রায় ১০/১২ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এনজিও থেকে লোন নিয়ে ধান চাষে নেমেছি ভালো ফলন না পেলে মাঠে মারা যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, এ উপজেলার কৃষকদের রোপা আমন ধান চাষে আগ্রহ রয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা বর্তমানে পুরোদমে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া বর্তমানে অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে আমরা আশা করছি ঠিকঠাক মতো রোপা আমন আবাদ শেষ হবে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের চাষাবাদ হবে। প্রন্তিক কৃষকদের পাশে বিভিন্ন পরামর্শ সহ যেকোনো সেবায় নিয়োজিত আছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে উপজেলায় প্রায় ২০% জমিতে রোপা আমন ধান লাগানো শেষ হয়েছে। বাকি জমিগুলোতে রোপা আমন আবাদের প্রস্ততি চলছে জোরেশোরে। রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও চারা বীজের সংকট না থাকায় কৃষক রোপা আমন ধান আবাদে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।