পদ্মার চরাঞ্চলে পুলিশের নতুন ঠিকানা
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলখ্যাত ৭ নম্বর চকরাজাপুর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতা কাটিয়ে এলাকায় শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসবে।
শনিবার চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই পদ্মার এই চরাঞ্চলের মানুষ নানা ধরনের নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সময় চরাঞ্চলের মানুষের ঘরবাড়ি ও সম্পদ লুট করে তাদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছিল। স্বাধীনতার পরও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র চুরি, ছিনতাই, হত্যা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, দেশের মাটিতে কোনো অপরাধীর স্থান নেই এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা হলো—অপরাধী যে দলেরই হোক, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। অপরাধ করলে তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চকরাজাপুর পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম শুরু হওয়ার ফলে চরাঞ্চলে অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে চরাঞ্চলে অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন থেকে চরাঞ্চলের মানুষ দ্রুত পুলিশি সহায়তা ও আইনি সেবা পাবেন, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার) বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। তিনি বলেন, এই পুলিশ ফাঁড়ি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই যেকোনো অপরাধ সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার, চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস, চারঘাট-বাঘা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. খালেদ হোসেন, বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম, চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মালেক, বাঘা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম মলিন, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিব, চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম সরকারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীজন এবং চরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে পুলিশি উপস্থিতি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করতে হয়েছে। নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালু হওয়ায় এখন অপরাধ দমনের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়া যাবে। তাদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ চরাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।