শনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীফ্ল্যাট ও ব্যবসার নামে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

ফ্ল্যাট ও ব্যবসার নামে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

দম্পতিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
ফ্ল্যাট ও ব্যবসার নামে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসা, ফ্ল্যাট বিক্রি এবং বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনপুর ইউনিয়নের একবরপুর গ্রামের আবুল হাসান (সুজন), তার স্ত্রী মোসা. খাদিজা খুশি এবং আবুল হায়াত শাহীনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য কিংবা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আটকে রাখা হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলার হুমকি এবং নানা কৌশলে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এসব অভিযোগে ইতোমধ্যে একাধিক ভুক্তভোগী আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হয়েছেন।

মামলার অভিযোগে ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম উল্লেখ করেন, ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাসের যন্ত্রাংশ আমদানির আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হয়নি। বারবার যোগাযোগ করেও টাকা ফেরত না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

এদিকে আরেক ভুক্তভোগী এমদাদের অভিযোগ, রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার বারো রাস্তার মোড়ে প্রস্তাবিত মদিনা টাওয়ার প্রকল্পের ডেভেলপার পরিচয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফ্ল্যাট হস্তান্তর তো দূরের কথা, বিনিয়োগকারীদের অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ চুক্তিপত্র ছাড়াই অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা ফেরতের জন্য অভিযুক্তদের দেওয়া একাধিক চেক ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেগুলো ডিজঅনার হয়। এতে প্রতারণার অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেন, ব্যবসা, ফ্ল্যাট এবং লাভজনক বিনিয়োগের বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা তাদের পাওনা ফেরত না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক দুর্ভোগেও পড়েছেন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রশাসন অভিযোগ তদন্তে সক্রিয় হলে অভিযুক্তরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তদন্ত কার্যক্রমকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এ ছাড়া অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধেও আদালতে ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, চেক ডিজঅনার এবং চুক্তিভঙ্গের মতো অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন থাকায় তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে। ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

ফ্ল্যাট ও ব্যবসার নামে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীফ্ল্যাট ও ব্যবসার নামে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

ফ্ল্যাট ও ব্যবসার নামে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

দম্পতিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
ফ্ল্যাট ও ব্যবসার নামে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসা, ফ্ল্যাট বিক্রি এবং বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনপুর ইউনিয়নের একবরপুর গ্রামের আবুল হাসান (সুজন), তার স্ত্রী মোসা. খাদিজা খুশি এবং আবুল হায়াত শাহীনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য কিংবা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আটকে রাখা হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলার হুমকি এবং নানা কৌশলে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এসব অভিযোগে ইতোমধ্যে একাধিক ভুক্তভোগী আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হয়েছেন।

মামলার অভিযোগে ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম উল্লেখ করেন, ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাসের যন্ত্রাংশ আমদানির আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হয়নি। বারবার যোগাযোগ করেও টাকা ফেরত না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

এদিকে আরেক ভুক্তভোগী এমদাদের অভিযোগ, রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার বারো রাস্তার মোড়ে প্রস্তাবিত মদিনা টাওয়ার প্রকল্পের ডেভেলপার পরিচয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফ্ল্যাট হস্তান্তর তো দূরের কথা, বিনিয়োগকারীদের অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ চুক্তিপত্র ছাড়াই অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা ফেরতের জন্য অভিযুক্তদের দেওয়া একাধিক চেক ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেগুলো ডিজঅনার হয়। এতে প্রতারণার অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেন, ব্যবসা, ফ্ল্যাট এবং লাভজনক বিনিয়োগের বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা তাদের পাওনা ফেরত না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক দুর্ভোগেও পড়েছেন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রশাসন অভিযোগ তদন্তে সক্রিয় হলে অভিযুক্তরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তদন্ত কার্যক্রমকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এ ছাড়া অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধেও আদালতে ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, চেক ডিজঅনার এবং চুক্তিভঙ্গের মতো অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন থাকায় তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে। ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

ফ্ল্যাট ও ব্যবসার নামে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১১ জুলাই ২০২৬