সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাজশাহী গড়ার আহ্বানে উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন
উৎসবমুখর পরিবেশে রাজশাহীতে উদযাপন করা হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে পরে নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
র্যালি শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ রক্ষা মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম শর্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সবার সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়, রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, বায়ু ও পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহীকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আক্তার, নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিখা সরকার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. গোলাম মোস্তফা এবং পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি উৎপাদনে ঝুঁকি এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। এ সময় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।