রাজশাহীতে শহর রক্ষা বাঁধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু
রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা, বাঁধের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণের লক্ষ্যে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টা থেকে নগরীর কেশবপুর দক্ষিণপাড়া টি-বাঁধ এলাকায় যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসন ও পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার অভিজিৎ সরকার। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান চলাকালে টি-বাঁধের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো, যা নগরীকে নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেয়। বাঁধের ওপর কিংবা এর সংরক্ষিত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা বাঁধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বিঘ্নিত করতে পারে। তাই এসব স্থাপনা অপসারণে জেলা প্রশাসন ও পাউবো যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, শহর রক্ষা বাঁধকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কেশবপুর এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য চিহ্নিত এলাকাতেও একই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, বাঁধের সংরক্ষিত এলাকায় কোনো ধরনের অবৈধ দখল বা স্থাপনা সহ্য করা হবে না।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযান শুরুর আগে অবৈধ দখলদারদের একাধিকবার লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মাইকিং করে স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। এরপরও যারা নির্দেশনা অমান্য করে স্থাপনা অপসারণ করেননি, তাদের বিরুদ্ধেই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ সরকার বলেন, অবৈধ দখলদারদের আগেই একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তারা স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় আজ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি জানান, কেবল কেশবপুর নয়, শ্রীরামপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরো অংশজুড়ে পর্যায়ক্রমে এ অভিযান পরিচালিত হবে। জনস্বার্থ, সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা এবং শহর রক্ষা বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি নতুন করে যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হবে। বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।