বৃহস্পতিবার , ০৯ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদসবুজায়ন ও খাল খননে জলবায়ু মোকাবিলার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

সবুজায়ন ও খাল খননে জলবায়ু মোকাবিলার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

favicon
উপচার ডেস্ক :-
সবুজায়ন ও খাল খননে জলবায়ু মোকাবিলার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও নদী-খাল পুনঃখননকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার যে বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তা শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে মানুষের নিরাপদ ও সুস্থ জীবনও নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজায়নে বিনিয়োগ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, একটি শিশু জন্মগ্রহণ করলে তার স্মরণে অন্তত একটি গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক—এভাবেই সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান জানান, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, পরিবেশ ও মাটির উপযোগী দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ এবং সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। ওষুধি, ফলদ, বনজ, বাঁশজাতীয়, অর্থকরী ও বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণির মতো দ্রুত বর্ধনশীল বিদেশি প্রজাতির গাছ পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বহু বছর ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে থাকা পুরোনো গাছ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা আরও বেশি জরুরি। বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগ কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এ বাস্তবতায় সরকার পরিবেশ সংরক্ষণকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, তা কৃষিতে সারা বছর সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু বৃক্ষরোপণ বা খাল খনন যথেষ্ট নয়। রাজধানীসহ দেশের সব শহর ও বন্দর এলাকায় আধুনিক ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল (৩আর) নীতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকেরও কর্তব্য। তিনি সবাইকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার এবং নিজেদের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সবুজায়ন ও খাল খননে জলবায়ু মোকাবিলার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৯ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ০৯ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদসবুজায়ন ও খাল খননে জলবায়ু মোকাবিলার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

সবুজায়ন ও খাল খননে জলবায়ু মোকাবিলার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

favicon
উপচার ডেস্ক :-
সবুজায়ন ও খাল খননে জলবায়ু মোকাবিলার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও নদী-খাল পুনঃখননকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার যে বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তা শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে মানুষের নিরাপদ ও সুস্থ জীবনও নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজায়নে বিনিয়োগ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, একটি শিশু জন্মগ্রহণ করলে তার স্মরণে অন্তত একটি গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক—এভাবেই সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান জানান, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, পরিবেশ ও মাটির উপযোগী দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ এবং সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। ওষুধি, ফলদ, বনজ, বাঁশজাতীয়, অর্থকরী ও বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণির মতো দ্রুত বর্ধনশীল বিদেশি প্রজাতির গাছ পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বহু বছর ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে থাকা পুরোনো গাছ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা আরও বেশি জরুরি। বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগ কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এ বাস্তবতায় সরকার পরিবেশ সংরক্ষণকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, তা কৃষিতে সারা বছর সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু বৃক্ষরোপণ বা খাল খনন যথেষ্ট নয়। রাজধানীসহ দেশের সব শহর ও বন্দর এলাকায় আধুনিক ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল (৩আর) নীতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকেরও কর্তব্য। তিনি সবাইকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার এবং নিজেদের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সবুজায়ন ও খাল খননে জলবায়ু মোকাবিলার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৯ জুলাই ২০২৬