শুক্রবার , ১০ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদঘুমন্ত শিশুর গালে ইঁদুরের কামড়
ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে যাচ্ছে গাজার মানবতা

ঘুমন্ত শিশুর গালে ইঁদুরের কামড়

favicon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ঘুমন্ত শিশুর গালে ইঁদুরের কামড়

গাজায় যুদ্ধ থামার কথা ছিল। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতির চুক্তিও হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা যেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রতিটি রাত এখনো ভয়, ক্ষুধা আর মৃত্যুর ছায়া নিয়ে নেমে আসে অবরুদ্ধ এই উপত্যকায়।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো চাপা পড়ে আছে হাজার হাজার মানুষের মরদেহ। আর যারা বেঁচে আছেন, তাদের অনেকেই দিনের পর দিন কাটাচ্ছেন অস্থায়ী তাঁবুতে, যেখানে নেই নিরাপদ আশ্রয়, নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা।

এবার সেই দুর্ভোগে যোগ হয়েছে আরও এক বিভীষিকা—ইঁদুরের উপদ্রব। আশ্রয়শিবিরগুলোতে রাতের অন্ধকারে বড় বড় ইঁদুর ঘুমন্ত শিশুদের শরীরে কামড় বসাচ্ছে। অনেক নবজাতক ও প্রতিবন্ধী মানুষও এই আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। সকালে ঘুম ভাঙছে ক্ষতবিক্ষত শরীর আর আতঙ্কে কাঁপতে থাকা পরিবারগুলোর।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ, এখন বাস্তুচ্যুত। দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ভেঙে পড়া পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং জমে থাকা আবর্জনার কারণে আশ্রয়শিবিরগুলো ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

গাজা সিটিতে প্রায় ২৫ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনা জমে আছে। এই পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগ ও সংক্রমণ। পাশাপাশি বেড়েছে মশা, মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব। মানবিক সহায়তাকারী সংস্থা মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইনিয়ানস (MAP)-এর জরুরি বিভাগের প্রধান স্যালি সালেহ জানিয়েছেন, ইঁদুর এখন শুধু খাবার নষ্টই করছে না, সরাসরি মানুষ—বিশেষ করে ঘুমন্ত শিশুদের—আক্রমণ করছে।

শিশুদের নিরাপদ ঘুম নিশ্চিত করতে না পারার অসহায়ত্বে ভেঙে পড়ছেন বাবা-মায়েরা। অনেকেই জানিয়েছেন, রাতে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেখেও তারা আতঙ্কমুক্ত থাকতে পারছেন না।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও হামলা থামেনি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪২৯ জনের বেশি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সময়ে গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশুর প্রাণ ঝরেছে।

গাজায় আজ শুধু বোমার শব্দ নয়, ক্ষুধা, রোগ, বাস্তুচ্যুতি এবং রাতের আঁধারে ঘুমন্ত শিশুদের ওপর ইঁদুরের আক্রমণ—সব মিলিয়ে এক গভীর মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। যে শিশুদের স্বপ্ন দেখার কথা, তারা এখন বেঁচে থাকার জন্য লড়ছে। আর বিশ্বের সামনে প্রশ্ন রয়ে গেছে—আর কত মৃত্যু, কত কান্না আর কত ক্ষত দেখার পর এই শিশুদের জন্য সত্যিকারের শান্তি ফিরবে?

ঘুমন্ত শিশুর গালে ইঁদুরের কামড়
ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে যাচ্ছে গাজার মানবতা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৮ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ১০ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদঘুমন্ত শিশুর গালে ইঁদুরের কামড়
ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে যাচ্ছে গাজার মানবতা

ঘুমন্ত শিশুর গালে ইঁদুরের কামড়

favicon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ঘুমন্ত শিশুর গালে ইঁদুরের কামড়

গাজায় যুদ্ধ থামার কথা ছিল। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতির চুক্তিও হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা যেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রতিটি রাত এখনো ভয়, ক্ষুধা আর মৃত্যুর ছায়া নিয়ে নেমে আসে অবরুদ্ধ এই উপত্যকায়।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো চাপা পড়ে আছে হাজার হাজার মানুষের মরদেহ। আর যারা বেঁচে আছেন, তাদের অনেকেই দিনের পর দিন কাটাচ্ছেন অস্থায়ী তাঁবুতে, যেখানে নেই নিরাপদ আশ্রয়, নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা।

এবার সেই দুর্ভোগে যোগ হয়েছে আরও এক বিভীষিকা—ইঁদুরের উপদ্রব। আশ্রয়শিবিরগুলোতে রাতের অন্ধকারে বড় বড় ইঁদুর ঘুমন্ত শিশুদের শরীরে কামড় বসাচ্ছে। অনেক নবজাতক ও প্রতিবন্ধী মানুষও এই আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। সকালে ঘুম ভাঙছে ক্ষতবিক্ষত শরীর আর আতঙ্কে কাঁপতে থাকা পরিবারগুলোর।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ, এখন বাস্তুচ্যুত। দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ভেঙে পড়া পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং জমে থাকা আবর্জনার কারণে আশ্রয়শিবিরগুলো ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

গাজা সিটিতে প্রায় ২৫ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনা জমে আছে। এই পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগ ও সংক্রমণ। পাশাপাশি বেড়েছে মশা, মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব। মানবিক সহায়তাকারী সংস্থা মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইনিয়ানস (MAP)-এর জরুরি বিভাগের প্রধান স্যালি সালেহ জানিয়েছেন, ইঁদুর এখন শুধু খাবার নষ্টই করছে না, সরাসরি মানুষ—বিশেষ করে ঘুমন্ত শিশুদের—আক্রমণ করছে।

শিশুদের নিরাপদ ঘুম নিশ্চিত করতে না পারার অসহায়ত্বে ভেঙে পড়ছেন বাবা-মায়েরা। অনেকেই জানিয়েছেন, রাতে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেখেও তারা আতঙ্কমুক্ত থাকতে পারছেন না।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও হামলা থামেনি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪২৯ জনের বেশি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সময়ে গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশুর প্রাণ ঝরেছে।

গাজায় আজ শুধু বোমার শব্দ নয়, ক্ষুধা, রোগ, বাস্তুচ্যুতি এবং রাতের আঁধারে ঘুমন্ত শিশুদের ওপর ইঁদুরের আক্রমণ—সব মিলিয়ে এক গভীর মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। যে শিশুদের স্বপ্ন দেখার কথা, তারা এখন বেঁচে থাকার জন্য লড়ছে। আর বিশ্বের সামনে প্রশ্ন রয়ে গেছে—আর কত মৃত্যু, কত কান্না আর কত ক্ষত দেখার পর এই শিশুদের জন্য সত্যিকারের শান্তি ফিরবে?

ঘুমন্ত শিশুর গালে ইঁদুরের কামড়
ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে যাচ্ছে গাজার মানবতা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৮ জুলাই ২০২৬