শুক্রবার , ০৩ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীরাবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

রাবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় সংগঠনই একে অপরের বিরুদ্ধে হল দখল, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং সিট বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুললেও নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে আবাসিক হল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও রাজনৈতিক বিবেচনায় হল নিয়ন্ত্রণ ও সিট বণ্টনের পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বৈধ আবাসিকতা ছাড়াই বিভিন্ন হলে অবস্থান করছেন এবং হল প্রশাসনের সহযোগিতায় সিট দখলের চেষ্টা করছেন। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সম্প্রতি সংগঠনটির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে ছাত্রদল এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে দাবি করেছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলে আসন রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, মোট আসনের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষদের বিশেষ কোটার মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি বিশেষ কোটায় ছাত্রদল-সমর্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর আবাসিকতা পাওয়া এবং সোহরাওয়ার্দী হলে বৈধ আবাসিকতা ছাড়াই ছাত্রদলের তিন কর্মীর অবস্থানের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের অভিযোগ, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রশিবিরও বিভিন্ন আবাসিক হলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। এতে হলকেন্দ্রিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠাকে ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মুখপাত্র ফুয়াদ রাতুল বলেন, “হল বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে দলীয় বিবেচনায় সিট দেওয়া হচ্ছে। যে দল যেখানে প্রভাবশালী, সেখানেই হল দখলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, “অতীতে ছাত্রলীগের সময়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে সিট বণ্টনের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, বর্তমানে তার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় হলের আসন বরাদ্দ নিশ্চিত করা।”

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ছাত্রদল কখনো হল দখল, সিট বাণিজ্য কিংবা প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।”

অন্যদিকে ছাত্রশিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, “ছাত্রশিবিরের সুপারিশে কাউকে হলে আবাসিকতা দেওয়া হয়েছে—এমন একটি প্রমাণও দেখানো যাবে না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুসারেই সিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং নীতিমালার আলোকে আবাসিকতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসিক হলের সীমিত আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিবছরই সিট বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। তবে এ সমস্যা নিরসনে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন সিট বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

রাবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ০৩ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীরাবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

রাবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় সংগঠনই একে অপরের বিরুদ্ধে হল দখল, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং সিট বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুললেও নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে আবাসিক হল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও রাজনৈতিক বিবেচনায় হল নিয়ন্ত্রণ ও সিট বণ্টনের পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বৈধ আবাসিকতা ছাড়াই বিভিন্ন হলে অবস্থান করছেন এবং হল প্রশাসনের সহযোগিতায় সিট দখলের চেষ্টা করছেন। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সম্প্রতি সংগঠনটির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে ছাত্রদল এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে দাবি করেছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলে আসন রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, মোট আসনের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষদের বিশেষ কোটার মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি বিশেষ কোটায় ছাত্রদল-সমর্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর আবাসিকতা পাওয়া এবং সোহরাওয়ার্দী হলে বৈধ আবাসিকতা ছাড়াই ছাত্রদলের তিন কর্মীর অবস্থানের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের অভিযোগ, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রশিবিরও বিভিন্ন আবাসিক হলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। এতে হলকেন্দ্রিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠাকে ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মুখপাত্র ফুয়াদ রাতুল বলেন, “হল বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে দলীয় বিবেচনায় সিট দেওয়া হচ্ছে। যে দল যেখানে প্রভাবশালী, সেখানেই হল দখলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, “অতীতে ছাত্রলীগের সময়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে সিট বণ্টনের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, বর্তমানে তার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় হলের আসন বরাদ্দ নিশ্চিত করা।”

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ছাত্রদল কখনো হল দখল, সিট বাণিজ্য কিংবা প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।”

অন্যদিকে ছাত্রশিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, “ছাত্রশিবিরের সুপারিশে কাউকে হলে আবাসিকতা দেওয়া হয়েছে—এমন একটি প্রমাণও দেখানো যাবে না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুসারেই সিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং নীতিমালার আলোকে আবাসিকতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসিক হলের সীমিত আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিবছরই সিট বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। তবে এ সমস্যা নিরসনে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন সিট বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

রাবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ জুলাই ২০২৬