রাজশাহীতে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন'
রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত ও মানবতাবাদী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও একযোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সরকার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ সময়জুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কবির আদর্শ, সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন উপলক্ষে রাজশাহীতে দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ হিসেবে তিন দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন শুরু হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে রাজশাহীর সংস্কৃতিপ্রেমীরা জাতীয় কবির জীবন, কর্ম ও সৃষ্টির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
তিনি জানান, কর্মসূচির প্রথম দিন সন্ধ্যা ৭টায় নজরুলের স্মৃতিভিত্তিক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩ জুলাই বিভিন্ন বয়সী প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। এছাড়া ৪ জুলাই নজরুলের বিভিন্ন ধারার গান নিয়ে মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনের আয়োজন শেষ হবে।
জেলা প্রশাসক রাজশাহীর সর্বস্তরের জনগণকে এই উৎসবমুখর সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন।
আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ’-এর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় কবির সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও বিদ্রোহী চেতনাকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে তাঁর সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।