মঙ্গলবার , ৩০ জুন ২০২৬
হোমরাজশাহীকাগজে-কলমে চাল বিতরণ

কাগজে-কলমে চাল বিতরণ

গুদামে মিলল সরকারি বস্তা
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
কাগজে-কলমে চাল বিতরণ

সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে মোবাইল অ্যাপে টিসিবির চাল বিতরণের তথ্য দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ ভোক্তা চাল পাননি। বিতরণের দুদিন পর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষ থেকে সরকারি সিলযুক্ত ৫০ কেজির ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

কুতুবপুর ইউনিয়নে টিসিবির নিবন্ধিত ভোক্তা এক হাজার ৫০ জন। সক্রিয় কার্ড রয়েছে এক হাজার ১৫টি। গত ১৯ জুন মে মাসের বরাদ্দের পণ্য বিতরণ করা হলেও চাল ছাড়া অন্যান্য পণ্য দেওয়া হয়। অথচ অ্যাপে চালসহ সব পণ্য বিতরণের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী প্রত্যেক ভোক্তার পাওয়ার কথা ছিল পাঁচ কেজি চাল, দুই লিটার তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, গোসলের সাবান, কাপড় কাচার সাবান ও ওয়াশিং পাউডার।

দুদিন পর পরিষদের একটি কক্ষে সরকারি খাদ্যগুদামের সিলযুক্ত ৪০ বস্তা চাল পাওয়া যায়। গ্রাম পুলিশ বুধন রবিদাস জানান, চালগুলো ডিলার তারেক আহম্মেদ সেখানে রেখে গেছেন।

টিসিবির ভোক্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অন্য সব পণ্য পেলেও চাল পাইনি। ডিলার বলেছেন, চাল আসেনি। তবে চালের ১৫০ টাকা কম নিয়েছেন।’

আরেক ভোক্তা জরিনা খাতুন বলেন, ‘আমাকে শুধু তেল, ডাল ও চিনি দেওয়া হয়েছে। চাল, সাবান ও পাউডার কিছুই পাইনি। চাল চাইলে বলা হয়েছে, বরাদ্দ আসেনি।’

টিসিবির ডিলার হাজী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তারেক আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সব পণ্য বিতরণ এখনও শেষ হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদে রাখা চাল আমারই। নিরাপত্তার জন্য সেখানে রাখা হয়েছে, পরে ভোক্তাদের দেওয়া হবে।’

কুতুবপুর ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ডিলার কখন পণ্য বিতরণ করেন, সে বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয় না। এমনকি অনেক সময় আমার স্বাক্ষরও নেওয়া হয় না।’

কুতুবপুর ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার নুর আলম বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে চাল রাখা যাবে না বলে ডিলারকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম। তারপরও চাল রেখে ভোক্তাদের না দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাল জব্দ এবং ডিলারের লাইসেন্স বাতিলেরও সুপারিশ করা হবে।’

ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কাগজে-কলমে চাল বিতরণ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৯ জুন ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ৩০ জুন ২০২৬
হোমরাজশাহীকাগজে-কলমে চাল বিতরণ

কাগজে-কলমে চাল বিতরণ

গুদামে মিলল সরকারি বস্তা
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
কাগজে-কলমে চাল বিতরণ

সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে মোবাইল অ্যাপে টিসিবির চাল বিতরণের তথ্য দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ ভোক্তা চাল পাননি। বিতরণের দুদিন পর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষ থেকে সরকারি সিলযুক্ত ৫০ কেজির ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

কুতুবপুর ইউনিয়নে টিসিবির নিবন্ধিত ভোক্তা এক হাজার ৫০ জন। সক্রিয় কার্ড রয়েছে এক হাজার ১৫টি। গত ১৯ জুন মে মাসের বরাদ্দের পণ্য বিতরণ করা হলেও চাল ছাড়া অন্যান্য পণ্য দেওয়া হয়। অথচ অ্যাপে চালসহ সব পণ্য বিতরণের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী প্রত্যেক ভোক্তার পাওয়ার কথা ছিল পাঁচ কেজি চাল, দুই লিটার তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, গোসলের সাবান, কাপড় কাচার সাবান ও ওয়াশিং পাউডার।

দুদিন পর পরিষদের একটি কক্ষে সরকারি খাদ্যগুদামের সিলযুক্ত ৪০ বস্তা চাল পাওয়া যায়। গ্রাম পুলিশ বুধন রবিদাস জানান, চালগুলো ডিলার তারেক আহম্মেদ সেখানে রেখে গেছেন।

টিসিবির ভোক্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অন্য সব পণ্য পেলেও চাল পাইনি। ডিলার বলেছেন, চাল আসেনি। তবে চালের ১৫০ টাকা কম নিয়েছেন।’

আরেক ভোক্তা জরিনা খাতুন বলেন, ‘আমাকে শুধু তেল, ডাল ও চিনি দেওয়া হয়েছে। চাল, সাবান ও পাউডার কিছুই পাইনি। চাল চাইলে বলা হয়েছে, বরাদ্দ আসেনি।’

টিসিবির ডিলার হাজী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তারেক আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সব পণ্য বিতরণ এখনও শেষ হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদে রাখা চাল আমারই। নিরাপত্তার জন্য সেখানে রাখা হয়েছে, পরে ভোক্তাদের দেওয়া হবে।’

কুতুবপুর ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ডিলার কখন পণ্য বিতরণ করেন, সে বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয় না। এমনকি অনেক সময় আমার স্বাক্ষরও নেওয়া হয় না।’

কুতুবপুর ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার নুর আলম বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে চাল রাখা যাবে না বলে ডিলারকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম। তারপরও চাল রেখে ভোক্তাদের না দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাল জব্দ এবং ডিলারের লাইসেন্স বাতিলেরও সুপারিশ করা হবে।’

ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কাগজে-কলমে চাল বিতরণ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৯ জুন ২০২৬