রুয়েটে তিনদিনের পরিদর্শনে বিএইটিই ইভ্যালুয়েশন টিম
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) পরিদর্শনে এসেছে ‘বোর্ড অব অ্যাক্রিডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন’ (বিএইটিই)-এর ইভ্যালুয়েশন টিম। তিনদিনব্যাপী এ পরিদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো, গবেষণা পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা মূল্যায়ন করা হবে।
রোববার (২১ জুন) সকালে বিএইটিই ইভ্যালুয়েশন টিম রুয়েট ক্যাম্পাসে পৌঁছায়। পরে সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় তারা অংশ নেন। সভায় রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রতিনিধিসহ ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে ইভ্যালুয়েশন টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক বিভাগ, ল্যাবরেটরি, শ্রেণিকক্ষ, গবেষণা সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন অবকাঠামো ও সেবাসমূহ পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা শিক্ষার গুণগত মান, পাঠদানের পরিবেশ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিদর্শনের শেষ দিন আগামী মঙ্গলবার বিএইটিই প্রতিনিধিরা উপাচার্য, ডিন ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমাপনী বৈঠকে অংশ নেবেন। এরপর তারা পরিদর্শন কার্যক্রমের সার্বিক মূল্যায়ন শেষে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবেন।
উল্লেখ্য, বিএইটিই দেশের প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে তদারকি, মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অ্যাক্রিডিটেশন বা স্বীকৃতি প্রদান করে থাকে। এর আগে বিএইটিই ইভ্যালুয়েশন টিমের পরিদর্শনের পর রুয়েটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ—ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং পুরকৌশল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগ—ছয় বছরের জন্য মর্যাদাপূর্ণ বিএইটিই অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন করে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ বর্তমানে বিএইটিই অ্যাক্রিডিটেশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএইটিই অ্যাক্রিডিটেশন অর্জনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের স্বীকৃতি লাভ করে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাড়তি গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জনের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা লাভ করে।
এছাড়া ভবিষ্যতে ‘ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড’-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কাঠামোর সুবিধা পাওয়ার পথও আরও সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। রুয়েট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলমান এ পরিদর্শন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।