রাজশাহীতে হোটেল শ্রমিক হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ
হোটেল শ্রমিক শাওন হত্যার বিচার, তার পরিবারের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান, হোটেল শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি গেজেট বাস্তবায়ন এবং শ্রম আইন কার্যকরের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ, রাজশাহী-এর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক ও সংগঠনের নেতাকর্মী অংশ নেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক মো. ফিরোজ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহুরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিঠুন, টিইউসি ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র রাজশাহীর সভাপতি আইয়ুব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাজশাহী জেলার সাবেক সভাপতি হুমায়ুন রেজা জেনু, সংগ্রাম পরিষদের সদস্য মো. বিপুল, সাধারণ সদস্য মো. মুমিন, মো. ফেরদৌসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ১৬ জুন রংপুর শহরের খামার মোড় এলাকায় পানের পিক ফেলাকে কেন্দ্র করে হোটেল শ্রমিক শাওনকে কর্মরত অবস্থায় হোটেল মালিক মনু ও তার ছেলে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এতদিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, শাওন হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকরা মালিকপক্ষের নির্যাতন, শোষণ ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে।
তারা অবিলম্বে শাওন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী নিহত শাওনের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, সরকার ঘোষিত হোটেল শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি গেজেট দ্রুত বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং শ্রম আইন যথাযথভাবে কার্যকরের দাবি জানান।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শাওন হত্যার বিচার নিশ্চিত না করা হলে এবং তার পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান না করা হলে সারাদেশে হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।