রাজশাহীতে সিএনজি সংকট নিরসনে ভূমিমন্ত্রীর দ্বারস্থ রেন্ট-এ-কার শ্রমিক ইউনিয়ন
রাজশাহী জেলা মাইক্রোবাস, জীপগাড়ি ও কার শ্রমিক ইউনিয়ন (ট্রেড লাইসেন্স নং: রাজ বি-৩৪২৭)-এর পক্ষ থেকে রাজশাহীর কৃতি সন্তান, সাবেক সিটি মেয়র এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী জনাব মিজানুর রহমান মিনু-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর নিজ বাসভবনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে রেন্ট-এ-কার ও সিএনজি চালিত যানবাহন খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম, সাধারণ সম্পাদক জিলহজ্জ, সহ-সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. ছোটন আলী, সড়ক সম্পাদক কামাল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য মিন্টু, হাফিজ, মামুনসহ মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজশাহীতে রেন্ট-এ-কার ও সিএনজি চালিত যানবাহনের সবচেয়ে বড় সংকট বর্তমানে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের স্বল্পতা। একটি মাত্র পাম্পের ওপর হাজারো যানবাহন নির্ভরশীল হওয়ায় চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকি সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে হয়। এতে সময়, শ্রম ও অর্থ—তিনটিই অপচয় হচ্ছে।
ইউনিয়নের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
"রাজশাহীতে আরও দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুত অবস্থায় থাকলেও রহস্যজনক কারণে চালু করা হচ্ছে না। একটি মাত্র পাম্পের ওপর নির্ভরশীল থাকায় প্রতিদিন শত শত চালক চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। নতুন পাম্প চালু হলে এই সংকট অনেকটাই দূর হবে।"
সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, "রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে হয়। এতে চালকদের বিশ্রাম, আয় এবং পারিবারিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত নতুন সিএনজি পাম্প চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।"
সাধারণ সম্পাদক জিলহজ্জ বলেন, "রেন্ট-এ-কার চালকদের রিকুইজিশন সংক্রান্ত জটিলতা, বিভিন্ন সংস্থার হয়রানি এবং সিএনজি সংকটের কারণে পরিবহন খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "চালকদের হয়রানি বন্ধ, নতুন সিএনজি পাম্প চালু, রিকুইজিশন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং অযৌক্তিক হয়রানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।"
এ সময় নেতারা অভিযোগ করেন, রাজশাহীতে আরও দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও সেগুলো চালু হচ্ছে না। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল বা বিদ্যমান পাম্পের মালিকপক্ষ বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে নতুন পাম্প চালু হতে বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে সাধারণ চালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে, অথচ এককভাবে বিদ্যমান পাম্প ব্যবসায়িক সুবিধা পাচ্ছে।
তারা আরও বলেন, নতুন সিএনজি ফিলিং স্টেশন চালু হলে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, রাতভর সিরিয়াল দেওয়া এবং অযথা হয়রানি থেকে চালকরা মুক্তি পাবেন। এতে পরিবহন সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন বলে ইউনিয়নের নেতারা জানান।