শনিবার , ২০ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরাজশাহীসহ চার বিভাগে সক্রিয় শুটার নেটওয়ার্ক

রাজশাহীসহ চার বিভাগে সক্রিয় শুটার নেটওয়ার্ক

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীসহ চার বিভাগে সক্রিয় শুটার নেটওয়ার্ক

নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর বাইরে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রধারী পেশাদার শুটারদের একাধিক গ্রুপ। রাজশাহী,চট্টগ্রাম, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ-এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নির্বাচনকে ঘিরে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শুটার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক গোয়েন্দা সূত্র। ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো এবং প্রয়োজনে টার্গেট কিলিংয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই গভীর রাতে নদীর মাঝখানে নৌকায় বসে কিংবা পরিত্যক্ত ইটভাটায় আগ্নেয়াস্ত্র চালনার গোপন প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে এসব গ্রুপ।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী অঞ্চলে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রধারী পেশাদার শুটারদের তৎপরতা বাড়ছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণে, সীমান্তঘেঁষা এ অঞ্চলে অস্ত্রের অবৈধ প্রবাহ এবং নির্জন এলাকায় গোপন প্রশিক্ষণের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাজশাহীর পদ্মা নদীর চরাঞ্চল, ফাঁকা কৃষিজমি এবং পরিত্যক্ত ইটভাটাগুলোকে ব্যবহার করে গভীর রাতে আগ্নেয়াস্ত্র চালনার অনুশীলন করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিখুঁত নিশানা, দ্রুত স্থান ত্যাগ, অস্ত্র গোপন রাখা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার মতো কৌশল রপ্ত করছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, রাজশাহীতে অন্তত তিন থেকে চারজন সক্রিয় শুটারের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, প্রয়োজন হলে এদের দেশের অন্য জেলাতেও ব্যবহার করা হতে পারে। সীমান্তসংলগ্ন অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা শুটার নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলছে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্বে নিষ্ক্রিয় বা আত্মগোপনে থাকা কিছু শুটারকে আবার সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, রাজনৈতিক কর্মী এবং অপরাধী চক্রের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে শুধু রাজশাহী নয়, চট্টগ্রাম, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জেও একই ধরনের শুটার নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর চরাঞ্চল ও পতেঙ্গার নির্জন এলাকা, খুলনার রূপসা ও ভৈরব নদীসংলগ্ন অঞ্চল এবং নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতেও গোপন প্রশিক্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে এসব তৎপরতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং সহিংসতার ঝুঁকি তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই নেটওয়ার্কগুলো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। নির্দিষ্ট কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র ব্যবহার না করে বারবার স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে নজরদারি এড়ানোর কৌশলও গ্রহণ করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে পেশাদার শুটারদের ব্যবহার বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। প্রকাশ্য সংঘর্ষে না গিয়ে সীমিত সময়ে বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টির জন্য এসব চক্রকে কাজে লাগানো হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্রধারী অপরাধী ও পেশাদার শুটারদের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় আশ্রয়দাতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সন্দেহভাজন ব্যক্তি এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছে বলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শুটারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি তাদের অর্থদাতা, আশ্রয়দাতা এবং সহযোগী নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে বিচ্ছিন্ন করা না গেলে নির্বাচনী সহিংসতার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে না। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজশাহীকেন্দ্রিক এসব অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্য দেশের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।

রাজশাহীসহ চার বিভাগে সক্রিয় শুটার নেটওয়ার্ক
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ জুন ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ২০ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরাজশাহীসহ চার বিভাগে সক্রিয় শুটার নেটওয়ার্ক

রাজশাহীসহ চার বিভাগে সক্রিয় শুটার নেটওয়ার্ক

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীসহ চার বিভাগে সক্রিয় শুটার নেটওয়ার্ক

নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর বাইরে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রধারী পেশাদার শুটারদের একাধিক গ্রুপ। রাজশাহী,চট্টগ্রাম, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ-এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নির্বাচনকে ঘিরে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শুটার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক গোয়েন্দা সূত্র। ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো এবং প্রয়োজনে টার্গেট কিলিংয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই গভীর রাতে নদীর মাঝখানে নৌকায় বসে কিংবা পরিত্যক্ত ইটভাটায় আগ্নেয়াস্ত্র চালনার গোপন প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে এসব গ্রুপ।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী অঞ্চলে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রধারী পেশাদার শুটারদের তৎপরতা বাড়ছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণে, সীমান্তঘেঁষা এ অঞ্চলে অস্ত্রের অবৈধ প্রবাহ এবং নির্জন এলাকায় গোপন প্রশিক্ষণের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাজশাহীর পদ্মা নদীর চরাঞ্চল, ফাঁকা কৃষিজমি এবং পরিত্যক্ত ইটভাটাগুলোকে ব্যবহার করে গভীর রাতে আগ্নেয়াস্ত্র চালনার অনুশীলন করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিখুঁত নিশানা, দ্রুত স্থান ত্যাগ, অস্ত্র গোপন রাখা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার মতো কৌশল রপ্ত করছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, রাজশাহীতে অন্তত তিন থেকে চারজন সক্রিয় শুটারের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, প্রয়োজন হলে এদের দেশের অন্য জেলাতেও ব্যবহার করা হতে পারে। সীমান্তসংলগ্ন অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা শুটার নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলছে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্বে নিষ্ক্রিয় বা আত্মগোপনে থাকা কিছু শুটারকে আবার সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, রাজনৈতিক কর্মী এবং অপরাধী চক্রের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে শুধু রাজশাহী নয়, চট্টগ্রাম, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জেও একই ধরনের শুটার নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর চরাঞ্চল ও পতেঙ্গার নির্জন এলাকা, খুলনার রূপসা ও ভৈরব নদীসংলগ্ন অঞ্চল এবং নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতেও গোপন প্রশিক্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে এসব তৎপরতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং সহিংসতার ঝুঁকি তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই নেটওয়ার্কগুলো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। নির্দিষ্ট কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র ব্যবহার না করে বারবার স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে নজরদারি এড়ানোর কৌশলও গ্রহণ করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে পেশাদার শুটারদের ব্যবহার বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। প্রকাশ্য সংঘর্ষে না গিয়ে সীমিত সময়ে বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টির জন্য এসব চক্রকে কাজে লাগানো হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্রধারী অপরাধী ও পেশাদার শুটারদের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় আশ্রয়দাতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সন্দেহভাজন ব্যক্তি এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছে বলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শুটারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি তাদের অর্থদাতা, আশ্রয়দাতা এবং সহযোগী নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে বিচ্ছিন্ন করা না গেলে নির্বাচনী সহিংসতার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে না। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজশাহীকেন্দ্রিক এসব অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্য দেশের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।

রাজশাহীসহ চার বিভাগে সক্রিয় শুটার নেটওয়ার্ক
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ জুন ২০২৬