বৃহস্পতিবার , ১৮ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদ৫২ বছর ধরে সংগ্রামের প্রতীক শাজাহান মিয়া
কাঁধে ছাতার বোঝা-মুখে জীবনের হাসি

৫২ বছর ধরে সংগ্রামের প্রতীক শাজাহান মিয়া

favicon
সাইফুল ইসলাম:
৫২ বছর ধরে সংগ্রামের প্রতীক শাজাহান মিয়া

জীবনসংগ্রামের এক অনন্য উদাহরণ ৮০ বছর বয়সী শাজাহান মিয়া। বয়সের ভার, রোদ-বৃষ্টি কিংবা দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তি—কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তাকে। জীবিকার তাগিদে গত ৫২ বছর ধরে কাঁধে ২০ থেকে ৩০ কেজি ওজনের ছাতা ও মেরামতের সরঞ্জাম নিয়ে গ্রামের পর গ্রাম, হাটের পর হাট ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। পুরোনো ছাতা মেরামত করেন, আবার নিজের হাতে নতুন ছাতাও তৈরি করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানির নতুন ছাতাও বিক্রি করেন।

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার শাহামুলুববী গ্রামের মৃত সোনা শেখের ছেলে শাজাহান মিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি হাটে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েক বছর আগে নিজ গ্রামের ময়েজউদ্দিন নামের এক কারিগরের কাছে পুরোনো ছাতা মেরামত ও নতুন ছাতা তৈরির কাজ শেখেন। স্বাধীনতার পর নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করেন নিজের জীবিকার পথচলা। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

শাজাহান মিয়া জানান, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে তিনি দেশের অন্তত ৪০ থেকে ৪৫টি জেলা শহরসহ অসংখ্য গ্রাম-গঞ্জে পায়ে হেঁটে ব্যবসা করেছেন। কাঁধে ছাতা তৈরির সরঞ্জাম আর মেরামতের যন্ত্রপাতি নিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন সেবা।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, ১৯৯৫ সালে তিনি ভারতের জলঙ্গী, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, মেদিনীপুর ও বর্ধমানসহ বিভিন্ন এলাকাতেও এই পেশায় কাজ করেছেন। সীমান্তের দুই বাংলাতেই তার পরিশ্রম আর দক্ষতার পরিচয় ছড়িয়ে রয়েছে।

বর্তমানে পাঁচ সন্তানের জনক শাজাহান মিয়া। নিজের বলতে রয়েছে শুধু একটি বসতভিটা; অন্য কোনো জমিজমা নেই। এই ছাতার ব্যবসা করেই তিনি সংসার চালিয়েছেন, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন এবং সন্তানদের মানুষ করেছেন।

তিনি জানান, প্রতিদিন ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। সেই আয় দিয়েই এখনও নিজের প্রয়োজন মেটান।

কথার এক পর্যায়ে দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, "যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, ততদিন ছেলে-মেয়ের কাঁধে ভর করে চলব না। নিজের উপার্জনে খেয়ে বাঁচার আনন্দই আলাদা।"

৮০ বছর বয়সেও তার এই আত্মসম্মানবোধ, কর্মনিষ্ঠা ও আত্মনির্ভরতার মানসিকতা সত্যিই অনুকরণীয়। যেখানে অনেকেই বয়সের ভারে কর্মবিমুখ হয়ে পড়েন, সেখানে শাজাহান মিয়া প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও সততাই মানুষের সবচেয়ে বড় পুঁজি।

সমাজের কাছে শাজাহান মিয়া কেবল একজন ভ্রাম্যমাণ ছাতা বিক্রেতা নন; তিনি সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও পরিশ্রমের এক জীবন্ত প্রতীক। তার জীবনকাহিনি নতুন প্রজন্মকে শেখায়—কোনো কাজই ছোট নয়, সৎ পরিশ্রমই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

৫২ বছর ধরে সংগ্রামের প্রতীক শাজাহান মিয়া
কাঁধে ছাতার বোঝা-মুখে জীবনের হাসি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৮ জুন ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ১৮ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদ৫২ বছর ধরে সংগ্রামের প্রতীক শাজাহান মিয়া
কাঁধে ছাতার বোঝা-মুখে জীবনের হাসি

৫২ বছর ধরে সংগ্রামের প্রতীক শাজাহান মিয়া

favicon
সাইফুল ইসলাম:
৫২ বছর ধরে সংগ্রামের প্রতীক শাজাহান মিয়া

জীবনসংগ্রামের এক অনন্য উদাহরণ ৮০ বছর বয়সী শাজাহান মিয়া। বয়সের ভার, রোদ-বৃষ্টি কিংবা দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তি—কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তাকে। জীবিকার তাগিদে গত ৫২ বছর ধরে কাঁধে ২০ থেকে ৩০ কেজি ওজনের ছাতা ও মেরামতের সরঞ্জাম নিয়ে গ্রামের পর গ্রাম, হাটের পর হাট ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। পুরোনো ছাতা মেরামত করেন, আবার নিজের হাতে নতুন ছাতাও তৈরি করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানির নতুন ছাতাও বিক্রি করেন।

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার শাহামুলুববী গ্রামের মৃত সোনা শেখের ছেলে শাজাহান মিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি হাটে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েক বছর আগে নিজ গ্রামের ময়েজউদ্দিন নামের এক কারিগরের কাছে পুরোনো ছাতা মেরামত ও নতুন ছাতা তৈরির কাজ শেখেন। স্বাধীনতার পর নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করেন নিজের জীবিকার পথচলা। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

শাজাহান মিয়া জানান, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে তিনি দেশের অন্তত ৪০ থেকে ৪৫টি জেলা শহরসহ অসংখ্য গ্রাম-গঞ্জে পায়ে হেঁটে ব্যবসা করেছেন। কাঁধে ছাতা তৈরির সরঞ্জাম আর মেরামতের যন্ত্রপাতি নিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন সেবা।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, ১৯৯৫ সালে তিনি ভারতের জলঙ্গী, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, মেদিনীপুর ও বর্ধমানসহ বিভিন্ন এলাকাতেও এই পেশায় কাজ করেছেন। সীমান্তের দুই বাংলাতেই তার পরিশ্রম আর দক্ষতার পরিচয় ছড়িয়ে রয়েছে।

বর্তমানে পাঁচ সন্তানের জনক শাজাহান মিয়া। নিজের বলতে রয়েছে শুধু একটি বসতভিটা; অন্য কোনো জমিজমা নেই। এই ছাতার ব্যবসা করেই তিনি সংসার চালিয়েছেন, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন এবং সন্তানদের মানুষ করেছেন।

তিনি জানান, প্রতিদিন ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। সেই আয় দিয়েই এখনও নিজের প্রয়োজন মেটান।

কথার এক পর্যায়ে দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, "যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, ততদিন ছেলে-মেয়ের কাঁধে ভর করে চলব না। নিজের উপার্জনে খেয়ে বাঁচার আনন্দই আলাদা।"

৮০ বছর বয়সেও তার এই আত্মসম্মানবোধ, কর্মনিষ্ঠা ও আত্মনির্ভরতার মানসিকতা সত্যিই অনুকরণীয়। যেখানে অনেকেই বয়সের ভারে কর্মবিমুখ হয়ে পড়েন, সেখানে শাজাহান মিয়া প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও সততাই মানুষের সবচেয়ে বড় পুঁজি।

সমাজের কাছে শাজাহান মিয়া কেবল একজন ভ্রাম্যমাণ ছাতা বিক্রেতা নন; তিনি সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও পরিশ্রমের এক জীবন্ত প্রতীক। তার জীবনকাহিনি নতুন প্রজন্মকে শেখায়—কোনো কাজই ছোট নয়, সৎ পরিশ্রমই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

৫২ বছর ধরে সংগ্রামের প্রতীক শাজাহান মিয়া
কাঁধে ছাতার বোঝা-মুখে জীবনের হাসি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৮ জুন ২০২৬