মঙ্গলবার , ১৬ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদবিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সারদা পুলিশ একাডেমির পুকুর ইজারা ও সরকারি মালপত্র বিক্রি

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সারদা পুলিশ একাডেমির পুকুর ইজারা ও সরকারি মালপত্র বিক্রি

স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, অনিয়মের অভিযোগ
favicon
নুরে ইসলাম মিলন:-
বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সারদা পুলিশ একাডেমির পুকুর ইজারা ও সরকারি মালপত্র বিক্রি

রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্র বা পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই একাধিক পুকুর ইজারা এবং পুরোনো সরকারি মালপত্র বিক্রি করা হয়েছে। এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে পুলিশ একাডেমির পুকুর ইজারা বা অচল মালপত্র বিক্রির আগে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমেও আগ্রহী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হতো। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি পুলিশ একাডেমির তিনটি পুকুর দুই বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে চারঘাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মোজাফফর হোসেনের নামে। একই সময়ে একাডেমির এমটি শেডে থাকা পুরোনো টিন, দুটি অচল যানবাহনের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন মালপত্র রাজশাহী শহরের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিজ দেওয়া তিনটি পুকুরের মধ্যে চিমনি হলের দক্ষিণ পাশের পুকুরটির আয়তন প্রায় ১০ বিঘা। ক্যান্টিনের পূর্ব পাশের আরেকটি পুকুরের আয়তনও প্রায় ১০ বিঘা এবং এসপি কোয়ার্টারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত অপর পুকুরটির আয়তন প্রায় ৪ বিঘা। প্রায় ২৪ বিঘা আয়তনের এই তিনটি পুকুর দুই বছরের জন্য মোট ১৪ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের দাবি, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দর আহ্বান করা হলে সরকার আরও বেশি রাজস্ব পেতে পারত।

অন্যদিকে, একাডেমির এমটি শেডের পুরোনো দুটি গাড়ির টিন, লোহালক্কড় ও অন্যান্য মালপত্র মাত্র ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পারেন মালপত্র একাডেমি থেকে বের করার সময়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় স্থানীয়রা মালবোঝাই গাড়ি আটকে দেন। এ সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মালামাল নিতে আসা ব্যক্তি নিজের নাম 'বিশাল' বলে পরিচয় দেন এবং তিনি মালপত্র কিনেছেন বলে জানান।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, "আগে সরকারি কোনো মালপত্র বিক্রির আগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতো, অনেক সময় মাইকিংও করা হতো। এবার কিছুই হয়নি। আমরা পরে জানতে পারি মালপত্র বিক্রি হয়ে গেছে, পুকুরও লিজ দেওয়া হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র হলে সরকার আরও বেশি রাজস্ব পেত।"

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আগ্রহী সব ব্যবসায়ীকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে সীমিত কয়েকজনকে ডেকে দর নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

পুকুরের লিজগ্রহীতা মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, "ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ একাডেমিই কথা বলবে। আমার বক্তব্য জানতে হলে সরাসরি দেখা করতে হবে।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় একাডেমির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুব্রত ব্যানার্জি এবং ড্রাফটম্যান এ কে এম রফিকুল হাসান রাকিবের ভূমিকা ছিল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ কে এম রফিকুল হাসান রাকিব বলেন, "বিক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি জড়িত নই। বিক্রি সম্পন্ন হলে সাধারণত মালামাল বুঝিয়ে দিই। এবার সেটাও করিনি। এ বিষয়ে প্রধান সহকারী ভালো বলতে পারবেন।"

মালপত্র বিক্রি ও পুকুর ইজারার আগে কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে পুলিশ একাডেমির প্রধান সহকারী আতিকুর রহমান প্রথমে বলেন, "খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।" তবে পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুব্রত ব্যানার্জি বলেন, "বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। আমরা কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। যিনি সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন, তাকেই দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। ইজারার অর্থ ও বিক্রির টাকা যথাযথভাবে পুলিশ একাডেমির তহবিলে জমা হয়েছে।"

তবে প্রশাসনের এই বক্তব্য নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সরকারি সম্পদ ইজারা বা বিক্রির ক্ষেত্রে যদি উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশই না করা হয়, তাহলে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্ধারণের সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা হলো? সম্ভাব্য অন্যান্য আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকলে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ কতটা সম্ভব—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।

এ বিষয়ে পুলিশ একাডেমির পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগ, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উন্মুক্ত দরপত্র, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং অংশগ্রহণমূলক প্রতিযোগিতার বিকল্প নেই। অন্যথায় সরকারি সম্পদ বিক্রি ও ইজারা নিয়ে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ থেকেই যাবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন 

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সারদা পুলিশ একাডেমির পুকুর ইজারা ও সরকারি মালপত্র বিক্রি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ জুন ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ১৬ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদবিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সারদা পুলিশ একাডেমির পুকুর ইজারা ও সরকারি মালপত্র বিক্রি

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সারদা পুলিশ একাডেমির পুকুর ইজারা ও সরকারি মালপত্র বিক্রি

স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, অনিয়মের অভিযোগ
favicon
নুরে ইসলাম মিলন:-
বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সারদা পুলিশ একাডেমির পুকুর ইজারা ও সরকারি মালপত্র বিক্রি

রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্র বা পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই একাধিক পুকুর ইজারা এবং পুরোনো সরকারি মালপত্র বিক্রি করা হয়েছে। এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে পুলিশ একাডেমির পুকুর ইজারা বা অচল মালপত্র বিক্রির আগে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমেও আগ্রহী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হতো। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি পুলিশ একাডেমির তিনটি পুকুর দুই বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে চারঘাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মোজাফফর হোসেনের নামে। একই সময়ে একাডেমির এমটি শেডে থাকা পুরোনো টিন, দুটি অচল যানবাহনের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন মালপত্র রাজশাহী শহরের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিজ দেওয়া তিনটি পুকুরের মধ্যে চিমনি হলের দক্ষিণ পাশের পুকুরটির আয়তন প্রায় ১০ বিঘা। ক্যান্টিনের পূর্ব পাশের আরেকটি পুকুরের আয়তনও প্রায় ১০ বিঘা এবং এসপি কোয়ার্টারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত অপর পুকুরটির আয়তন প্রায় ৪ বিঘা। প্রায় ২৪ বিঘা আয়তনের এই তিনটি পুকুর দুই বছরের জন্য মোট ১৪ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের দাবি, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দর আহ্বান করা হলে সরকার আরও বেশি রাজস্ব পেতে পারত।

অন্যদিকে, একাডেমির এমটি শেডের পুরোনো দুটি গাড়ির টিন, লোহালক্কড় ও অন্যান্য মালপত্র মাত্র ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পারেন মালপত্র একাডেমি থেকে বের করার সময়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় স্থানীয়রা মালবোঝাই গাড়ি আটকে দেন। এ সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মালামাল নিতে আসা ব্যক্তি নিজের নাম 'বিশাল' বলে পরিচয় দেন এবং তিনি মালপত্র কিনেছেন বলে জানান।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, "আগে সরকারি কোনো মালপত্র বিক্রির আগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতো, অনেক সময় মাইকিংও করা হতো। এবার কিছুই হয়নি। আমরা পরে জানতে পারি মালপত্র বিক্রি হয়ে গেছে, পুকুরও লিজ দেওয়া হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র হলে সরকার আরও বেশি রাজস্ব পেত।"

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আগ্রহী সব ব্যবসায়ীকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে সীমিত কয়েকজনকে ডেকে দর নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

পুকুরের লিজগ্রহীতা মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, "ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ একাডেমিই কথা বলবে। আমার বক্তব্য জানতে হলে সরাসরি দেখা করতে হবে।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় একাডেমির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুব্রত ব্যানার্জি এবং ড্রাফটম্যান এ কে এম রফিকুল হাসান রাকিবের ভূমিকা ছিল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ কে এম রফিকুল হাসান রাকিব বলেন, "বিক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি জড়িত নই। বিক্রি সম্পন্ন হলে সাধারণত মালামাল বুঝিয়ে দিই। এবার সেটাও করিনি। এ বিষয়ে প্রধান সহকারী ভালো বলতে পারবেন।"

মালপত্র বিক্রি ও পুকুর ইজারার আগে কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে পুলিশ একাডেমির প্রধান সহকারী আতিকুর রহমান প্রথমে বলেন, "খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।" তবে পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুব্রত ব্যানার্জি বলেন, "বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। আমরা কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। যিনি সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন, তাকেই দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। ইজারার অর্থ ও বিক্রির টাকা যথাযথভাবে পুলিশ একাডেমির তহবিলে জমা হয়েছে।"

তবে প্রশাসনের এই বক্তব্য নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সরকারি সম্পদ ইজারা বা বিক্রির ক্ষেত্রে যদি উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশই না করা হয়, তাহলে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্ধারণের সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা হলো? সম্ভাব্য অন্যান্য আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকলে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ কতটা সম্ভব—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।

এ বিষয়ে পুলিশ একাডেমির পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগ, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উন্মুক্ত দরপত্র, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং অংশগ্রহণমূলক প্রতিযোগিতার বিকল্প নেই। অন্যথায় সরকারি সম্পদ বিক্রি ও ইজারা নিয়ে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ থেকেই যাবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন 

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সারদা পুলিশ একাডেমির পুকুর ইজারা ও সরকারি মালপত্র বিক্রি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ জুন ২০২৬