বুধবার , ১৭ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদপদ্মাচরে কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে মিলন-বক্করের অটুট দাপট

পদ্মাচরে কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে মিলন-বক্করের অটুট দাপট

অনুসন্ধানে শক্তির নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য
favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
পদ্মাচরে কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে মিলন-বক্করের অটুট দাপট

রাজশাহী, নাটোর, কুষ্টিয়া ও পাবনার বিস্তীর্ণ পদ্মাচরজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান, জাতীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির পর বাহিনীর প্রধান ইঞ্জিনিয়ার কাকন আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তার অনুপস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্ব এখন ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ চৌধুরী ওরফে মিলন চৌধুরী এবং আবু বক্কারের হাতে ন্যস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রগুলো বলছে, কাকনের ছবি ও পরিচয় দেশের বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর তার পক্ষে সরাসরি মাঠে অবস্থান করে বাহিনী পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই তিনি সীমান্তবর্তী দুর্গম চরাঞ্চলে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম চর উদয়নগরসহ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন চরে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে চলছেন। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সীমান্তঘেঁষা পরিবেশ তাকে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তদন্তে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। নিহত বেলাল বাহিনীর নেতা আজিজুল হক ঝড়ু ওরফে ঝড়ু মস্তানের স্থানে আবু বক্কারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মিলন চৌধুরী বাহিনীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। ফলে কাকন আত্মগোপনে থাকলেও মাঠ পর্যায়ে বাহিনীর কার্যক্রম থেমে নেই।

পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে কাকন বাহিনীর পাশাপাশি মন্ডল বাহিনী, বেলাল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, বান্নাহ বাহিনী, সুখচাঁদ বাহিনী, কালু বাহিনী ও নাহারুল বাহিনীসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় থাকলেও স্থানীয়দের মতে কাকন বাহিনীই সবচেয়ে প্রভাবশালী। প্রশ্ন উঠছে, কেন অন্য বাহিনীগুলোর তুলনায় কাকন বাহিনী এত শক্তিশালী?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, পদ্মার চরাঞ্চলের বালুমহল নিয়ন্ত্রণ। প্রতি মৌসুমে কোটি কোটি টাকার বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি। অভিযোগ রয়েছে, বালু উত্তোলন, চরের জমি দখল, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা এবং সীমান্তপথে চোরাচালান থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে বাহিনীটি অস্ত্র, জনবল ও প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রেখেছে।

দ্বিতীয়ত, পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চল বাহিনীটির সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, বিচ্ছিন্ন চর, বিস্তীর্ণ কলাবাগান, কাশবন ও সীমান্তঘেঁষা অবস্থানের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই সদস্যরা দ্রুত এক চর থেকে অন্য চরে কিংবা সীমান্তবর্তী এলাকায় সরে যায়। ফলে অভিযান পরিচালনা করেও অধিকাংশ সময় মূল নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় না।

তৃতীয়ত, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় কাকন বাহিনী নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে। সরকার পরিবর্তনের পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে কোনো দায় স্বীকার করেননি।

চতুর্থত, প্রশাসনের একটি অসাধু অংশের বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও নতুন নয়। গত বছরের যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। যদিও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি, তবে অভিযোগগুলো নতুন করে তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বছর আগে কাকন বাহিনীর উত্থান ঘটে। একসময় পান্না বাহিনী ও লালচাঁদ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কাকন পরবর্তীতে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। ২০০৫ সালে র‌্যাবের অভিযানে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী পান্না নিহত হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে সৌদি আরব পাড়ি জমান। কয়েক বছর পর দেশে ফিরে পদ্মার বালুমহল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আবারও সংগঠিতভাবে বাহিনী গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চলতি সময়ে প্রশাসনের বিশেষ অভিযান "অপারেশন ফার্স্টলাইট" শুরুর পর কিছুদিন বাহিনীগুলোর তৎপরতা কমে এলেও পরে আবারও গোলাগুলি, আধিপত্য বিস্তার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। গত বছরের ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের দুর্গম চরে কাকন ও মন্ডল বাহিনীর সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। সর্বশেষ ৯ জুন বেলাল বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন আজিজুল হক ঝড়ু। এসব ঘটনায় চরাঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, পুলিশ কাকন বাহিনীসহ সব সশস্ত্র গ্রুপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিযানে কোনো শৈথিল্য নেই। দুর্গম চরাঞ্চলের কারণে অভিযান পরিচালনায় কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে কাকন বাহিনীর মতো সংগঠিত অপরাধচক্র নির্মূল করা সম্ভব নয়। বালুমহলের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতি দমন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগ এবং চরাঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা না হলে নেতৃত্ব বদল হলেও কাকন বাহিনীর মতো সশস্ত্র চক্রগুলো নতুন নেতৃত্বে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

পদ্মাচরে কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে মিলন-বক্করের অটুট দাপট
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ জুন ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বুধবার , ১৭ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদপদ্মাচরে কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে মিলন-বক্করের অটুট দাপট

পদ্মাচরে কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে মিলন-বক্করের অটুট দাপট

অনুসন্ধানে শক্তির নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য
favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
পদ্মাচরে কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে মিলন-বক্করের অটুট দাপট

রাজশাহী, নাটোর, কুষ্টিয়া ও পাবনার বিস্তীর্ণ পদ্মাচরজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান, জাতীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির পর বাহিনীর প্রধান ইঞ্জিনিয়ার কাকন আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তার অনুপস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্ব এখন ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ চৌধুরী ওরফে মিলন চৌধুরী এবং আবু বক্কারের হাতে ন্যস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রগুলো বলছে, কাকনের ছবি ও পরিচয় দেশের বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর তার পক্ষে সরাসরি মাঠে অবস্থান করে বাহিনী পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই তিনি সীমান্তবর্তী দুর্গম চরাঞ্চলে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম চর উদয়নগরসহ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন চরে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে চলছেন। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সীমান্তঘেঁষা পরিবেশ তাকে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তদন্তে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। নিহত বেলাল বাহিনীর নেতা আজিজুল হক ঝড়ু ওরফে ঝড়ু মস্তানের স্থানে আবু বক্কারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মিলন চৌধুরী বাহিনীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। ফলে কাকন আত্মগোপনে থাকলেও মাঠ পর্যায়ে বাহিনীর কার্যক্রম থেমে নেই।

পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে কাকন বাহিনীর পাশাপাশি মন্ডল বাহিনী, বেলাল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, বান্নাহ বাহিনী, সুখচাঁদ বাহিনী, কালু বাহিনী ও নাহারুল বাহিনীসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় থাকলেও স্থানীয়দের মতে কাকন বাহিনীই সবচেয়ে প্রভাবশালী। প্রশ্ন উঠছে, কেন অন্য বাহিনীগুলোর তুলনায় কাকন বাহিনী এত শক্তিশালী?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, পদ্মার চরাঞ্চলের বালুমহল নিয়ন্ত্রণ। প্রতি মৌসুমে কোটি কোটি টাকার বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি। অভিযোগ রয়েছে, বালু উত্তোলন, চরের জমি দখল, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা এবং সীমান্তপথে চোরাচালান থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে বাহিনীটি অস্ত্র, জনবল ও প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রেখেছে।

দ্বিতীয়ত, পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চল বাহিনীটির সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, বিচ্ছিন্ন চর, বিস্তীর্ণ কলাবাগান, কাশবন ও সীমান্তঘেঁষা অবস্থানের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই সদস্যরা দ্রুত এক চর থেকে অন্য চরে কিংবা সীমান্তবর্তী এলাকায় সরে যায়। ফলে অভিযান পরিচালনা করেও অধিকাংশ সময় মূল নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় না।

তৃতীয়ত, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় কাকন বাহিনী নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে। সরকার পরিবর্তনের পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে কোনো দায় স্বীকার করেননি।

চতুর্থত, প্রশাসনের একটি অসাধু অংশের বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও নতুন নয়। গত বছরের যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। যদিও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি, তবে অভিযোগগুলো নতুন করে তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বছর আগে কাকন বাহিনীর উত্থান ঘটে। একসময় পান্না বাহিনী ও লালচাঁদ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কাকন পরবর্তীতে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। ২০০৫ সালে র‌্যাবের অভিযানে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী পান্না নিহত হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে সৌদি আরব পাড়ি জমান। কয়েক বছর পর দেশে ফিরে পদ্মার বালুমহল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আবারও সংগঠিতভাবে বাহিনী গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চলতি সময়ে প্রশাসনের বিশেষ অভিযান "অপারেশন ফার্স্টলাইট" শুরুর পর কিছুদিন বাহিনীগুলোর তৎপরতা কমে এলেও পরে আবারও গোলাগুলি, আধিপত্য বিস্তার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। গত বছরের ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের দুর্গম চরে কাকন ও মন্ডল বাহিনীর সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। সর্বশেষ ৯ জুন বেলাল বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন আজিজুল হক ঝড়ু। এসব ঘটনায় চরাঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, পুলিশ কাকন বাহিনীসহ সব সশস্ত্র গ্রুপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিযানে কোনো শৈথিল্য নেই। দুর্গম চরাঞ্চলের কারণে অভিযান পরিচালনায় কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে কাকন বাহিনীর মতো সংগঠিত অপরাধচক্র নির্মূল করা সম্ভব নয়। বালুমহলের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতি দমন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগ এবং চরাঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা না হলে নেতৃত্ব বদল হলেও কাকন বাহিনীর মতো সশস্ত্র চক্রগুলো নতুন নেতৃত্বে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

পদ্মাচরে কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে মিলন-বক্করের অটুট দাপট
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ জুন ২০২৬