নওগাঁয় ভাগ্নীর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মামার সংবাদ সম্মেলন
নওগাঁয় গরুর বাছুর বাড়ির উঠোনে যাওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাগ্নির দায়ের করা 'মিথ্যা ও সাজানো' মামলা থেকে রেহাই পেতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একটি ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছি ইউনিয়নের পারবাঁকাপুর মোল্লাপাড়ায় ভুক্তভোগীদের বাড়ির সামনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য ও মৌখিক অভিযোগ তুলে ধরেন মোনায়েম মোল্লা, মোহাম্মদ আলী মোল্লা, ইমরান আলী মোল্লা, মাহফুজ, আসমা খাতুন, মাহফুজা, বৃষ্টি এবং আকলিমা খাতুনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মোনায়েম মোল্লা জানান, পারবাঁকাপুর গ্রামের মৃত মেহের আলীর সন্তানদের মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। মোনায়েমের বোনের মেয়ে (ভাগ্নি) পাপিয়া পারবাঁকাপুর সংলগ্ন দরিয়াপুর গ্রামে একটি মাটির বাড়িতে বসবাস করেন। অভিযোগ রয়েছে, পাপিয়া ও তার পরিবার সামান্য ঘটনাতেই যখন-তখন যাকে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে মোনায়েমের একটি গরুর বাছুর ভাগ্নি পাপিয়ার বাড়ির উঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পাপিয়া ও তার ভাই মোর্শেদ লাঠিসোটা নিয়ে মোনায়েমের ছেলে ইমরানের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ইমরানের মাড়ির দাঁত ভেঙে যায় এবং হাড় ফেটে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ইমরানকে প্রথমে শৈলগাছি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী কাজীহাটার ‘ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল কেয়ার’-এ নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। ইমরান বর্তমানেও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ইমরান যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সেই সুযোগে ভাগ্নি পাপিয়া বাদী হয়ে নওগাঁ সদর আমলি আদালতে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৪৯/২০২৬)। দণ্ডবিধির ১৪৮, ৪৪৮, ৩২৩, ৩১৩, ৩২৫ ও ৫০৬ (২) ধারায় দায়ের করা ওই মামলায় জখম হওয়া ইমরান, তার বাবা মোনায়েম, মা আসমা এবং অন্য মামা মোহাম্মদ আলী মোল্লাকে আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আসামিপক্ষ দাবি করেন, মামলায় পাপিয়ার মেয়ে সুরাইয়া, বোন পপি, প্রতিবেশী রইচ উদ্দিন এবং ভাই মোর্শেদকে সাক্ষী করা হয়েছে। অথচ এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে— মারামারির সময় পাপিয়াকে বাঁচাতে গিয়ে তার মেয়ে সুরাইয়ার পেটে লাথি লাগায় সাত সপ্তাহের গর্ভজাত সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার দিন সুরাইয়া ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। তিনি রাণীনগর উপজেলার চকাদিন শেখপাড়ায় তার স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মামলায় আসামিদের ফাঁসাতে এবং বিষয়টিকে স্পর্শকাতর করতেই এই ‘গর্ভপাতের’ নাটক সাজানো হয়েছে, যার কোনো চিকিৎসাগত ভিত্তি নেই। এমনকি মামলার ৪ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আলী মোল্লা ঘটনার দিন এক প্রতিবেশীর জমি রেজিস্ট্রি কাজের জন্য নওগাঁ সদরে অবস্থান করছিলেন, যা স্থানীয়রা অবগত আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাপিয়া ও তার পরিবার এর আগেও এলাকায় একাধিক মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। বর্তমান মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য বাদীপক্ষ প্রথমে ১ লাখ টাকা দাবি করেছিল।
এ বিষয়ে মামলার বাদী পাপিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি মামলা করতে চাননি। স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার না পেয়ে আদালতে গেছেন। তবে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, স্থানীয়রা যদি উদ্যোগ নিয়ে আপস-মীমাংসা করে দেয় এবং তার চিকিৎসার খরচ বাবদ ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দেয়, তবে তিনি মামলা তুলে নিতে রাজি আছেন।
বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য জেলা ডিবি (ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশের কাছে ন্যস্ত রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি ডিবি পুলিশের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।